নতুন নীতিমালার বিভিন্ন ধারা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সারের নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। এর পরে পরিপত্রে বিদ্যমান ডিলারের পাশাপাশি প্রতি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তবে ‘বিদ্যমান ডিলার’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক বা একাধিক ডিলার রয়েছেন। ফলে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হলে কোনো কোনো ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা তিন বা তার বেশি হতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করছে।
বিএফএ বলছে, তড়িঘড়ি করে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি, বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য নীতিমালার অস্পষ্টতা দূর করা, বিদ্যমান ডিলারদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সার বিতরণ ব্যবস্থার বাস্তব সক্ষমতা মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিত রাখা উচিত।
বিএফএ বলেছে, নতুন নীতিমালায় বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের একই শ্রেণির সার ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দুই ধরনের ডিলারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা জামানত, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
বিসিআইসি ডিলাররা ১৯৯৫ সাল থেকে দুই লাখ টাকা নিরাপত্তা জামানত দিয়ে সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে বিএডিসির ডিলাররা মূলত বীজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৯ সাল থেকে ২৫ হাজার টাকা নিরাপত্তা জামানতের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেজন্য নতুন ডিলার নিয়োগের আগে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের অবস্থান, ‘বিদ্যমান ডিলার’ হিসেবে তাদের মর্যাদা এবং প্রতিটি ডিলার ইউনিটে ডিলারের সংখ্যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির মতে, ডিলারশিপ বহাল রাখা, নবায়ন, স্থানান্তর, পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ডিলারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসময় জানানো হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর নীতিমালার বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়। তাদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘অসংলগ্ন’ ধারাগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য ৬০ দিনের একটি রুল জারি করেছেন। এরপরও বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে বলে দাবি করা হয়।
নতুন ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা চলছে বলে দাবি করে এসময় উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি। এছাড়া, সার বিতরণে ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।