দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগতভাবে অধঃপতিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষা-সংস্কৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারত্ব এবং দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পঙ্গু হওয়ার পথে। অনেক অধঃপতন ও ভুলের পর এখন শোধরানোর পালা। এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করা, যাতে তা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে। অন্যথায় বাংলাদেশের পক্ষে খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব হবে না। উচ্চ শিক্ষার উন্নতি ছাড়া কোনো টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বণিক বার্তার আয়োজনে গতকাল প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা সম্মেলনে বক্তাদের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চ শিক্ষায় বৈশ্বিক মান: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এটি অস্বীকারের উপায় নেই যে আমাদের উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগতভাবে অধঃপতিত হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। এর পেছনের কারণগুলো আমাদের জানা। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারত্ব ও দুর্বৃত্তায়ন। গত দেড় দশকে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগেও প্রচণ্ড অনিয়ম হয়েছে। এটি সাময়িক কিংবা দলীয়করণের ব্যাপার নয়। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে পুরো সিস্টেম পঙ্গু হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।’
দেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় সমস্যা থাকার কারণে উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরি করা যাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এর প্রভাবে শিক্ষিত বেকারের সমস্যা আশঙ্কজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
সম্মেলনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক কথা হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব, এটা উচিত না। তাদের ওপর যত কম চাপানো যায়, সে চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সমাজ আমাদের কিছু দিয়েছে, এখন আমাদের সময় এসেছে সমাজকে এর প্রতিদান দেয়ার। সমাজের প্রতি আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা আছে। অ্যালামনাইদেরও অনেক দায়িত্ব। তাদেরও অনেক দায়বদ্ধতা আছে। এখন তাদের এগিয়ে আসা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘ইউজিসিকে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশন না বলে ইউনিভার্সিটি কমিশন অথবা উচ্চ শিক্ষা কমিশন বলা যায় কিনা, সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এটি একটি অসাধারণ ধারণা। এর মাধ্যমে আমরা সরকারের প্রতি নির্ভরশীলতা কমাতে পারব।’
সম্মেলনে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: প্রশাসন-পরিচালন-অর্থায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার সমস্যাগুলো মোটা দাগে সবারই জানা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানসম্মত গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। দেশের দলান্ধ ও হিংস্র রাজনীতি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমাদের দুটি দার্শনিক বিতর্ক রয়েছে। তবে এগুলোর উত্তর আমার জানা নেই। প্রথমত, কর্মসংস্থান কিংবা চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করা উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে কিনা? এ রকম একটি শক্ত বিতর্ক আছে। উচ্চ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ভিইটি)। কর্মসংস্থান বা চাকরির ব্যবস্থা করার সঙ্গে ভিইটি সরাসরি জড়িত। এর বাইরে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য মনুষ্যত্বের স্ফুরণ। চাকরির বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা এর দায় উচ্চ শিক্ষা নেবে কিনা, সেটি আমার জানা নেই। আমি কেবল বিতর্কটি উপস্থাপন করেছি।
বক্তব্যে উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের দর্শনের সঙ্গে শিক্ষার দর্শনের সমন্বয় করতে পারিনি, যারা পেরেছে তারা সব ক্ষেত্রে ভালো করছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নত না হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা পর্যন্ত জনসম্পদ যদি দক্ষ না হয়, শুধু প্রতিষ্ঠানগত কিছু পরিবর্তন এনে শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন সম্ভব না। উচ্চ শিক্ষা বলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আলাদা না করাই ভালো।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কী ধরনের শিক্ষার্থী আসবে বা শিক্ষক আসবে, তা নির্ভর করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বুনিয়াদ কতটুকু তার ওপর। গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্সে ১৪১টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১১৩। গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে অবস্থান ১২৯তম। এর কারণ আমরা উন্নয়নের দর্শনের সঙ্গে শিক্ষার দর্শনের সমন্বয় করতে কখনো পারিনি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘দেশের শিক্ষকদের দরিদ্র করে রাখা হয়েছে। এ কারণে অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে দুই-তিনটা চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতন স্কেল যদি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা তুলনা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়ান। দুই-তিনটা চাকরি না করলে জীবন-জীবিকা রক্ষা করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে, সবচেয়ে মেধাবীদের কাছে সবচেয়ে বেশি কন্ট্রিবিউশন চাইবেন কিন্তু তাকে দরিদ্র রাখবেন এটা কী স্ববিরোধিতা নয়?’
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অস্থায়ী) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহিনুল আলম বলেন, ‘শুধু যদি শিক্ষক নিয়োগকে গুণগতভাবে ধরে রাখা যায়, এ শিক্ষকরাই আগামী দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত পরিবর্তন করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। গবেষণার তহবিল নাই, বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নাই এসব নিয়ে অনেক আলোচনা হয় কিন্তু আমি বলব শুধু একটি জায়গা—শিক্ষক নিয়োগ যদি গুণগত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে।’
‘শিক্ষার গুণগতমান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও র্যাংকিং’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি হোক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কোথাও আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষা-সংস্কৃতি তৈরি করতে পারিনি। ক্যাম্পাসই যখন নিরাপদ নয়, তাহলে আমরা কীভাবে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখব। আমাদের দেশে আমরা শিক্ষার্থীদের একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস পর্যন্ত দিতে পারিনি। ক্যাম্পাসেই যদি আবরারের মতো কাউকে নিহত হতে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে বৈশ্বিক মানদণ্ডে যাব?’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে শিক্ষক আনতে গেলে বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমতি নিতে হয়। একজন ব্যক্তিকে শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে আনতে গেলে বিডা থেকে কেন অনুমতি নিতে হবে? বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্যও কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। এমনকি আমাদের দেশে স্টুডেন্ট ভিসা নেই। বিদেশী শিক্ষার্থীদের এদেশে ভ্রমণ ভিসা বা অন্যান্য ভিসায় আসতে হয়। এ ধরনের অনেক জটিলতা রয়েছে আমাদের দেশে।’
পাবলিক-প্রাইভেট বিভেদ ভুলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার মান দিয়ে বিবেচনা করা উচিত উল্লেখ করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। যেমন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিএইচডি ডিগ্রি দিতে পারলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সে অনুমতি নেই। অথচ আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় ভালো করছে, কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করছে। সরকারি-বেসরকারির এ বৈষম্য দূর করা উচিত।’
বিদেশী শিক্ষার্থী বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা বিদেশী শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোকাল শিক্ষার্থীর রেশিও যদি বের করতে যাই, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হবে শূন্য। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে, সেটাও অতি নগণ্য। তারপরও যেটা বলব, এসব ছাত্রও খুব একটা বেশি দেশ থেকে যে এসেছে এমন নয়। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে এবং আমাদের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে। এক্ষেত্রেও আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি করা প্রয়োজন।’
বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘র্যাংকিং সম্পর্কে বলতে গেলে এটা খুবই বড় এরিয়া। এখন অনেক র্যাংকিং ইনস্টিটিউশন গড়ে উঠেছে। খুব পরিচিত প্রতিষ্ঠান হলো টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিং ও কিউএস র্যাংকিং। বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে আমাদের ইউনিভার্সিটির অবস্থা সন্তোষজনক নয়। টাইমস র্যাংকিংয়ের প্রথম ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ই ইউরোপের। অন্যদিকে প্রথম এক হাজার ইউনিভার্সিটির তালিকায় আমাদের আছে মাত্র পাঁচটি। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোর র্যাংকিং ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। এটা যদিও সহজ নয়। বেশকিছু ক্রাইটেরিয়ায় ভালো করতে হয়। তবুও আমাদের ধীরে ধীরে র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে হবে।’
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: উন্নয়ন ও প্রবিধান’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন বলেন, ‘বিশ্বের নামিদামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শত বছরের ইতিহাসের বিপরীতে আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাত্র তিন দশকের পথচলায় জাতি গঠনে যে ভূমিকা বা জাতীয় অর্থনীতিতে যে অবদান রয়েছে, তা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে শিক্ষানুরাগী উদ্যোক্তারা নিজস্ব তহবিল দিয়ে অলাভজনক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে দেশে ১১৪টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী বিশ্বমানের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদেশ গমনের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে ও মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি মেধা পাচারও রোধ হয়েছে। উপরন্তু অনেক বিদেশী শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে।’
গবেষণা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় থাকা উচিত মন্তব্য করে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন এবং গবেষণার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি চালু করতে হবে। সরকার এ জায়গায় বরাদ্দ দিতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটের জন্য গবেষণা করতে পারে না। ফলে অনেক প্রতিভা নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি বিষয় হলো ইন্ডাস্ট্রি (শিল্প) এবং একাডেমিয়ার সঙ্গে সমন্বয় হওয়া। বহির্বিশ্বে এ জিনিসটা হয়, কোনো শিক্ষার্থী যখন বাইরের দেশের শিল্পমেলায় যায় তখন তারা ওই শিল্পমেলা থেকে বিভিন্ন পণ্যের উপাদানগুলো নিয়ে জেনে আসে। দেশে এসে তা প্রয়োগ করে নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করে। এভাবে তারা ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়।’
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এএম শামীম বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়ের আমাদের সঙ্গে সহযোগী হওয়া উচিত। আগে দেখা যেত ভিসির ফাইল তিন বছর ধরে আটকে রাখা হতো। প্রস্তাবিত তিনজনের মধ্যে ৩ নম্বর জনকে অনুমোদন দেয়া হতো। বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সমস্যা হয়েছে। র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে ইউজিসির সহায়তা লাগবে। শিক্ষিত বেকারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যেকেই উদ্যোক্তা হতে পারে। আমরা গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছি। কিন্তু আমাদের সত্যিকারের মানুষ বানাতে হবে।’
‘কর্মসংস্থান ও যুগোপযোগিতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষিত মানুষরা যদি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসে, যে আমরা হাতেকলমে কাজ করব, তাহলে ভালো হবে। আপনারা যখন শিক্ষা দেবেন, ব্যাপকভাবে সফট স্কিলস শিখিয়ে দেবেন। ইংরেজির ব্যাপারে ব্যাপক ফোকাস করবেন। কারণ ইংরেজি না হলে এগোনো যাবে না। বাস্তব প্রশিক্ষণ শেখাবেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন একটু বেশি। আমাদের সঙ্গে যদি কথা বলেন বেশি, তাহলে আপনাদের সুবিধা হবে।’
দেশের শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটি তার সর্বোচ্চ অবস্থায় নেই। সম্ভবত সেটি থেকে অনেক দূরে আছে। আমাদের এখানে প্রতি চারজনের একজন বেকার বা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না। সেজন্য ইন্ডাস্ট্রির চাহিদাগুলোকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে ভোকেশনাল শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা সার্ভিস সেক্টরটি তৈরি করা হবে, সেখানে সব ধরনের দক্ষতা লাগবে। তাই কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে টেকনিক্যাল ও মানবসম্পদের দক্ষতায়ও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ‘স্থানীয় প্রেক্ষাপটে লোকাল ছেলে-মেয়েকে আমাদের এখানে নিয়ে এলে আমরা নলেজ ও স্কিল দুটিকেই আলাদাভাবে দেখি। একটি ছেলে বা মেয়ে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারছে কিনা, সেটি আমরা দেখি। অর্থাৎ দক্ষতা বা স্কিল বেজড শিক্ষা। তাই শিক্ষাকে কতটা স্কিল বেজড করা যাচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি আমাদের এখানে নিয়োগে আমরা মনে করি কমিউনিকেশন, স্বচ্ছতা ও সততা।’
‘শিক্ষায় সুযোগ ও সমতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার প্রসঙ্গ নিয়ে বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষার্থীরা এক জায়গায় বসে কথা বলতে পারছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছি। বিশেষ করে আমি যেহেতু বায়োকেমিস্ট্রিতে পড়ি, আমি বলতে পারি বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে স্টেম রিসার্চের অবস্থা খুব একটা ভালো না। বলা যায় যে বাংলাদেশে রোগজীবাণুর পরিমাণ অনেক বেশি। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়। যেহেতু এখানে পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট নেই, পর্যাপ্ত ফ্যাসিলিটি নেই। পর্যাপ্ত ফাইন্ডিং যেগুলো করতে হয়, সেগুলো বাংলাদেশে সম্ভব হয় না। আমাদের দেশে যেসব বিজ্ঞানী বা গবেষক থাকেন তারা স্যাম্পলগুলো সংগ্রহ করে ইউএসএ বা অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দেন। এই যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের যে গবেষণা এর প্রভাবে সঠিক সময়ে সঠিক ট্রিটমেন্ট দেয়া যায় না। সে জায়গা থেকে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রথমেই শিক্ষা ব্যবস্থায় মনোযোগ দেয়া উচিত ছিল।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর কথা বলেন শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞসহ খাতসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে শিক্ষা, কৃষি ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘ভালো ছাত্র বের করতে চাইলে আমার উপাদানটা ভালো লাগবে। এ উপাদান হলো হিউম্যান ম্যাটেরিয়াল। এটি ছাত্রদের দিক থেকেও ভালো হতে হবে এবং শিক্ষকদের দিক থেকেও। ছাত্রদের দিক থেকে পেতে চাইলে সংস্কার শুরু করতে হবে একবারে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি লেভেল থেকে। আমাদের দেশের লোকের সেফটি পারসেপশন কেমন সেটা বোঝা যায় তাদের রাস্তা পার হওয়া দেখে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা খুবই বিপজ্জনকভাবে রাস্তা পার হয়। তখন বোঝা যায় শিক্ষা পরিপূর্ণ না। শিক্ষার মূল কাজ পুনঃউৎপাদন করা ও পুনঃউৎপাদন বজায় রাখা। সেটি হোক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষি, শিক্ষা বা মানবসম্পদ। যদি রাস্তা ঠিকভাবে পার করতে না পারি, তার মানে আমার গঠন ঠিকভাবে হয়নি।’
শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে চাকরি খুঁজতে না হয়, বরং চাকরি তাদের খুঁজে নেয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর ড. গুলশান আরা লতিফা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কয়েক বছর আগে একটি আউটকাম বেজড কারিকুলাম তৈরি করেছিল এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস সে অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ডিগ্রিগুলোকে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো ভর্তুকি চেয়ে অন্যায় চাপ তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম রেজওয়ান খান বলেন, ‘আমাদের উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য কিন্তু জ্ঞান সৃষ্টি করা। এটার জন্য মসলা ভালো হওয়া দরকার। চীনের বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ ডলার টিউশন ফি দেয়া লাগত ২৫ বছর আগে। কিন্তু আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রায় বিনা পয়সায় পড়ানোর ফলে শিক্ষকরা সঠিকভাবে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না। আমরা গবেষণায় খরচ করতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ পড়ছে। তাই হলগুলোয় খাওয়ার জন্য আরো ভর্তুকি চাওয়াটা ভালো কিংবা ইতিবাচক কিছু না। সরকারের ওপর অন্যায় চাপ তৈরি করা হচ্ছে।’
সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী গ্র্যাজুয়েটদের জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষা শেষ করে দেশে প্রতি বছর ২৫ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে কোনো কর্মক্ষেত্রের কোনো সামঞ্জস্য নেই। প্রথাগত কিছু কোর্স শেষ করে তারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, যে কারণে জব মার্কেটে কোনো দক্ষতা দেখাতে পারছেন না তারা। এর ফলে অর্থনীতিতে তারা ভালো কোনো অবদান রাখতে পারছেন না।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় যদি নজর না দেই, তাহলে কিন্তু আমাদের উচ্চ শিক্ষার বড় ধরনের উন্নতি হবে না। দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলামের দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষা বলতে আমরা কি শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ভাবছি না নাকি পিএইচডি ভাবছি? উচ্চ শিক্ষায় ভর্তুকি না থাকলে বাজারভিত্তিক শক্তিগুলো উচ্চ শক্তির দিকে ধাবিত করবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষকের অন্তত একটি বিদেশী ডিগ্রি থাকা উচিত উল্লেখ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে মানসম্মত শিক্ষক এবং গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অন্তত একটি বিদেশী ডিগ্রি থাকা উচিত।’
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, এক্সপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের পরিচালক ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) এসএআর মো. মঈনুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শওকত আলী, প্রাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আবদুর রহমান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. নওজিয়া ইয়াসমিন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান, সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামীমা আরা হাসান, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. সুচরিতা আহমেদ, বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম, আইইউবিএটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, পিরোজপুর বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শহীদুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, বিডিজবস ডটকমের সিইও ফাহিম মাশরুর, হুন্দাই বাংলাদেশের সিইও এবং ফেয়ার গ্রুপের পরিচালক মুতাসিম দাইয়ান, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের এমডি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের ডিএমডি মো. নুরুল আফছার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমালোচক রাখাল রাহা ও অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূইয়া, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. আবুল কাশেম, করপোরেট ব্যক্তিত্ব জাভেদ ইকবাল প্রমুখ।
সম্মেলনে আগত অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসার্চ অ্যান্ড সার্ভিসেসের (সিআইআরএস) পরিচালক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসাইন, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসুদ জাকারিয়া, শিক্ষক ও গবেষক আব্দুল্লাহ যোবায়ের, সেন্টার ফর বাংলাদেশ অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের (সিবিজিএ) গবেষক সৈয়দ রাইয়ান আমীর, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আজাহার উদ্দিন অনিক, জোবাইরুল হাসান আরিফ, আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মাহমুদুল হাসান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠক নাভিদ নওরোজ শাহ, ঢাকা কলেজের ছাত্র সংগঠক সাকিবুল হাছান, ছাত্রদল নেতা মো. শাহরিয়ারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।