সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী

প্রধান উপদেষ্টার শোক

আফ্রিকার দেশ সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো শান্তিরক্ষী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

আফ্রিকার দেশ সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো শান্তিরক্ষী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আইএসপিআর জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট ১৪ শান্তিরক্ষী হতাহত হন। এর মধ্যে ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলমান। আহত শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই পোস্টে।

এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীর শাহাদতবরণ এবং আরো আটজনের আহত হওয়ার সংবাদে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিপুল অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; বীরদের এ আত্মত্যাগ একদিকে জাতির গৌরব, অন্যদিকে গভীর বেদনার।’

প্রধান উপদেষ্টা নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, আহত শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এরই মধ্যে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ দুঃসময়ে সরকার শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।

বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ। তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা আরো জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

নিহত শান্তিরক্ষীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’তে (ইউএনআইএসএফএ) বাংলাদেশের একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সুদানের কোরদোফান অঞ্চলের কাদুগলি শহরে ড্রোন হামলায় জাতিসংঘের একটি স্থাপনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে সুদানের সেনা-সমর্থিত সরকার। সরকারবিরোধী আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এ হামলার জন্য দায়ী বলে এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার উল্লেখ করেছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সার্বভৌম পরিষদ এ ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

কাদুগলি শহরে গত নভেম্বরের শুরুতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। প্রায় দেড় বছর ধরে শহরটি আরএসএফের অবরোধে রয়েছে। আর কোরদোফান অঞ্চলটি পশ্চিমে আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর এবং উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সরবরাহ লাইন বজায় রাখা ও সেনা স্থানান্তরের জন্য কাদুগলির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। দারফুর অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ রয়েছে আরএসএফের বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য সুদানে সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেদ করে রাজধানী খার্তুম পুনর্দখলের লক্ষ্যেই আরএসএফ এসব হামলা জোরদার করছে।

আরও