স্বাস্থ্য সহকারীদের মানববন্ধনে বাগেরহাটে টিকাদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও স্বাস্থ্যসহকারীদের কর্মবিরতির কারণে বাগেরহাটে দুটি পৌরসভা ছাড়া সকল উপজেলায় এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে না পেরে শিশুদের অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বেতন বৈষম্য নিরসন, টেকনিক্যাল গ্রেডসহ সাত দফা দাবিতে গেল ২৬ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন বাগেরহাট জেলার ১‘শ৬৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী। আজ শনিবার দুপুরে তারা একই দাবিতে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিসট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপিত মো. আরাফাত শেখ, সাধারণ সম্পাদক এসএম রবিউল আলম, স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুন নাহার, সঞ্জয় শিকদার, নাসরিন খানম, নুরুন্নাহারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
তারা জানান, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে জেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে টিকার নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সন্তান নিয়ে এসে টিকা না দিতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও প্রচারের মাধ্যমে আমরা জেনেছি আজকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু হাসপাতাল ও বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ঘুরে দেকি কোন টিকাদান কর্মী নেই। সবাই বলছে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময়ে আমরা বাগেরহাট ও মোংলা পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে মোরেলগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলার ৯টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। বাগেরহাট জেলায় ৩ লাখ ১৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।