একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রথম দিনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখাগুলোয় প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করা হয়। তবে গ্রাহকদের অধিকাংশই টাকা উত্তোলন করতে আসেননি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা আগ্রহী হননি। এর ফলে অর্থ ফেরতের প্রথম দিনে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে। নতুন করে আবেদনের সংখ্যাও কমেছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। অধিকাংশ গ্রাহকই অর্থ উত্তোলন করতে আসেননি। অনেক শাখায় গ্রাহকদের ফোন দিয়েও আনা যায়নি। তারা ব্যাংকেই টাকা রাখতে চাচ্ছেন।’
আর্থিক সংকটে নুয়ে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। এরপর বিভিন্ন শর্তে গ্রাহকদের আংশিক টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হলেও গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ১-৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৪ হাজার গ্রাহক প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল থেকে অর্থ ফেরত দিতে শুরু করে ব্যাংকটি। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকও ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ব্যাংকটিকে।
তিনি বলেন, ‘অনেক গ্রাহক হয়তো চিন্তিত হয়ে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। তবে অর্থ ফেরতের বাস্তবিক অবস্থা দেখে তারা ব্যাংকের ওপর আবার আস্থা ফিরিয়ে আনছেন। কেউ কেউ আবার নতুন করে অর্থ জমাও করছেন।’
আবেদনকৃত অর্থ পূর্ণাঙ্গ উত্তোলন না হওয়ার পাশাপাশি নতুন আবেদনও কমে এসেছে। গতকাল নতুন করে ১৪ হাজার আমানতকারী প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা আমানত উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনও যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ফেরত দেয়া হবে।