গবেষণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে জায়গা পাচ্ছে না। যে কয়েকটি র্যাংকিংয়ে এসেছে সেগুলোও বেশ নিচের দিকে। এক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে গবেষণায় জোর দিতে হবে। তাছাড়া দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বৈষম্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিএইচডি ডিগ্রি দিতে পারলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে সে অনুমতি নেই। উচ্চ শিক্ষায় উৎকর্ষ আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে গতকাল বণিক বার্তা আয়োজিত প্রথম বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে আলোচকরা নিজেদের এ অভিমত তুলে ধরেন।
‘উচ্চ শিক্ষায় বৈশ্বিক মান: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ড. এসএমএ ফায়েজ। সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। সম্মেলনে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: প্রশাসন-পরিচালন-অর্থায়ন’ বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অস্থায়ী) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহিনুল আলম। প্যানেল আলোচনায় শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও র্যাংকিং বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া, আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান অংশ নেন।
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: উন্নয়ন ও প্রবিধান’ বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ডা. এএম শামীম। সম্মেলনে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে কর্মসংস্থান ও যুগোপযোগিতা বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় এবং গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান। ‘শিক্ষায় সুযোগ ও সমতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন। তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্রে দেখি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ র্যাংকিংগুলোয় স্থান পায় না। মূলত আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণায় সমৃদ্ধ নয়। গবেষণার জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলোর সংকট রয়েছে। বিশ্বে যেসব দেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করেছে তারা সবাই প্রযুক্তির দিক দিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে। আমাদের দেশ তার বিপরীত। প্রযুক্তিগতভাবে আমরা এগোতে পারেনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জিডিপির বড় একটা অংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করলেও আমাদের এখানে তা একেবারেই নগণ্য। এটা বাড়ানো প্রয়োজন। গবেষণার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি চালু করতে হবে।’
সরকারি-বেসরকারি বিভেদ ভুলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের শিক্ষার মান দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। যেমন দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করতে পারলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সে অনুমতি নেই। অথচ আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় ভালো করছে, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করছে। সরকারি-বেসরকারির এ বৈষম্য দূর করা উচিত। আমার সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা সরকারি-বেসরকারি বিভেদ ভুলে যাই, বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের শিক্ষার মান দিয়ে বিবেচনা করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষকের অন্তত একটি বিদেশী ডিগ্রি থাকা উচিত বলে মনে করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়ের বিষয়টি টেনে এনে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছ থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজেট পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত ফির ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বাজেট প্রদান করে অন্তত গবেষণার জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেয় তাহলে এক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নয়ন সম্ভব।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের মত চাপিয়ে দেয়ার যে প্রবণতা, তার বিরোধিতা করেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম রেজওয়ান খান। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ টিউশন ফি নিয়ে প্রশ্ন করেন। ইউজিসি আবার টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে একটি সীমা বেঁধে দেয়ার চিন্তা করছে। কিন্তু আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে বছরে ১০ হাজার ডলার টিউশিন ফি আরোপ করলেই আপনারা দেবেন না। যদি আপনারা দেন, তাহলে বুঝতে হবে আমি মানসম্মত শিক্ষা দিচ্ছি। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বুঝতে হবে। আবার ইউজিসি থেকে আমাদের দুটি সেমিস্টার করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুই ও তিনটি সেমিস্টারের মধ্যে ভালো ও মন্দ দুই দিকই আছে। এটা নিয়ে ইউজিসি কোনো গবেষণা না করে কেন আমাদের দুই সেমিস্টারের কথা বলছে? তাই নিয়ন্ত্রক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ থাকবে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। সিস্টেম তৈরি না করেই সৃজনশীল কারিকুলাম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। একই বিষয় ঘটেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও। এক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কি আসলে প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষা-সংস্কৃতি নিশ্চিত করার অবস্থায় আছি? আমাদের সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠান সরকার দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। উচ্চ শিক্ষায় বিভিন্ন নিয়মনীতি আরোপের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা বর্তমানে যে বিশ্বে বসবাস করছি, সেখানে শিক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা, কারিকুলামসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু আরো বেশি নমনীয় হওয়া উচিত। সর্বপ্রথম ইউজিসি ও অন্যান্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের বাধা থেকে মুক্ত হতে হবে। ইউজিসি কারিকুলাম পর্যবেক্ষণ করবে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কারিকুলাম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে স্বাধীনতা দেয়া দরকার। আমাদের দেশে একটি কোর্স অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে এটি কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। তাহলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে?’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে শিক্ষক আনতে গেলে বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমতি নিতে হয়। একজন ব্যক্তিকে শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে আনতে গেলে বিডা থেকে কেন অনুমতি নিতে হবে? বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্যও কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। এমনকি আমাদের দেশে স্টুডেন্ট ভিসা নেই। বিদেশী শিক্ষার্থীদের এ দেশে ভ্রমণ ভিসা কিংবা অন্যান্য ভিসায় আসতে হয়। এ ধরনের অনেক জটিলতা রয়েছে আমাদের দেশে।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বারবার পরিবর্তনের চেষ্টা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কাজে আসছে না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন। তিনি বলেন, ‘আইন দ্বারা স্বীকৃত অলাভজনক উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে উপর্যুপরি ভ্যাট, ট্যাক্স আদায়ের ঘটনা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোনো প্রকার সরকারি সহয়তা ছাড়া কেবল টিউশন ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাস নির্মাণ-বর্ধিতকরণ, ল্যাব-লাইব্রেরি সম্প্রসারণের মতো অত্যাবশ্যকীয় সব কাজ করতে হয়। এমতাবস্থায় কর প্রত্যাহার করা না হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আশা করি সমস্যাটির আশু সুরাহা হবে।’
শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে, শিক্ষা যেন সঠিকভাবে হয়। এর জন্য একটা সিলেবাস থাকবে। একটা সময়সীমা থাকবে। ইউনিটস থাকবে। ক্রেডিটস থাকবে। আউটলাইন থাকবে। এগুলো যেন পরিপূর্ণভাবে করা হয়। আমরা অনেক অভিযোগ শুনি, পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়েই কোর্স শেষ করে দেয়া হয়। এটা কোনোভাবেই উচিত নয়। আপনি যদি শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে চান তাহলে একজন গ্র্যাজুয়েটকে প্রফেশনাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। গবেষণার বিষয়ে বলতে গেলেও গুণগত মানের কথা আসবে। আজ লাখ লাখ জার্নাল আছে, কোথাও একটা গবেষণা প্রকাশ হলেই হবে না। সেটা কিউ ওয়ান, কিউ টু মানের হতে হবে।’
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিদেশী শিক্ষার্থী বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিতে হবে বলে মনে করছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশী শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোকাল শিক্ষার্থীর অনুপাত যদি বের করতে যাই, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হবে শূন্য। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকলেও সেটি অতি নগণ্য। এসব বিদেশী ছাত্র যে খুব একটা বেশি দেশ থেকে এসেছে এমন নয়। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আমাদের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে তারা এসেছে। এক্ষেত্রেও আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি করা প্রয়োজন। কাজটি এত সহজও নয়। ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশ থেকে আমাদের এখানে ছাত্র আসবে এ রকম আশা করা বাতুলতা। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী যে দেশগুলো আছে সেখান থেকে আমরা ছাত্র আনতে পারি। কিছুটা অনুন্নত দেশ থেকেও আমরা ছাত্র আনতে পারি।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের আমাদের সঙ্গে সহযোগী হওয়া উচিত। আগে দেখা যেত উপাচার্য নিয়োগের নথি তিন বছর ধরে আটকে রাখা হতো। তিনজনের মধ্যে শেষেরজনকে অনুমোদন দেয়া হতো। ভিসি নিয়োগ করা হতো রাজনৈতিক পরিচয়ে।’
র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে ইউজিসির সহায়তা চেয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা স্নাতক তৈরি করছি। কিন্তু আমাদের সত্যিকারের মানুষ বানাতে হবে। নিজেকে উপস্থাপন করতে পারতে হবে। দেরি করে আসবে, দুই লাইন ইংরেজি বলতে পারে না। তাহলে চাকরি হবে কীভাবে? আমাদের কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে। এখন যা আছে তার অন্তত ৬০ শতাংশ বাদ দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন কাজ। আমরা কি ক্লাসে শিল্পের নেতাদের আনতে পারি না? কারিকুলামের ৫০ শতাংশ যদি কোনো সিইও পড়ায় তাহলে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হবে। শিক্ষকদের জন্য স্নাতকের পর দুই বছরের জন্য একটি টিচিং কোর্স করানো দরকার। ভারতে এটা করানো হয়। আর দেশের কোন খাতে বেশি বিদেশী কাজ করে এটা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। বিদেশী যারা এ দেশে কাজ করছেন তারা অনেক ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। তাই এটা রিপ্লেস করা দরকার। এ বিষয়ে ইউজিসি আমাদের নিয়ে কাজ করতে পারে।’