৫০ কূপ খনন প্রকল্প

পাইপলাইন সংকটে গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি আবিষ্কৃত ৬২ শতাংশ গ্যাস

দেশে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বিগত সরকারের সময় ৫০টি কূপ খনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এসব কূপ খনন শেষে চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার কথা রয়েছে।

দেশে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বিগত সরকারের সময় ৫০টি কূপ খনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এসব কূপ খনন শেষে চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার কথা রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত খনন হয়েছে কেবল ১৮টি কূপ, যার মাধ্যমে দৈনিক ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে পেট্রোবাংলা। তবে পাইপলাইন সংকটে আবিষ্কৃত গ্যাসের ৬২ শতাংশই যুক্ত করা যায়নি জাতীয় গ্রিডে।

প্রকল্পটি শেষ হতে আর মাত্র তিন মাস সময় থাকলেও পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকি কূপগুলোও খননের কাজ এ বছরের মধ্যে শুরু হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে পেট্রোবাংলার কোম্পানিগুলো। তবে এ কাজ শেষ হতে ২০২৬ সাল নাগাদ লেগে যেতে পারে বলে জানান তারা।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশের গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এ প্রকল্পের আওতায় নতুন কূপ খনন, মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ, কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত পেট্রোবাংলার সাবসিডিয়ারি উৎপাদন কোম্পানিগুলো ১৮টি কূপ খনন করে দৈনিক ১৯৪ মিলিয়ন গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে পাইপলাইন সংকটের কারণে মাত্র ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীপ জেলা ভোলায় বাপেক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তিনটি কূপ খনন করে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। এর মধ্যে ইলিশা-১ কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে। আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও সেখান থেকে এখনো গ্যাস উত্তোলন করা যায়নি। ইলিশা ছাড়াও ভোলা নর্থ-২ ও টবগি-১ কূপে গ্যাসের সন্ধান মিললেও পাইপলাইন না থাকায় সেগুলোও জাতীয় গ্রিডে আনা যাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ভোলায় সংযোগ না থাকায় এ গ্যাস ‍যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ভোলার তিনটি কূপে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করা গেছে। সে গ্যাস এলএনজি করে জাতীয় গ্রিডে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। যদিও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিকল্পনা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্র, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, সিলেট-১০ এক্স কূপে গ্যাস মিললেও জাতীয় গ্রিডে তা যুক্ত করা যায়নি। এদিকে দেশের গ্যাস ক্ষেত্রগুলোয় ক্রমান্বয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে সরকারি এ সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাইপলাইন সংকটের কারণে ভোলার গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করা যাচ্ছে না। অথচ সেখানে ৬০ মিলিয়ন গ্যাসের সংস্থান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আবিষ্কৃত বাকি গ্যাসও যত দ্রুত সম্ভব গ্রিডে যুক্ত করতে। এরই মধ্যে রশিদপুর-৭ কূপের গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া সিলেট-১০ এক্স ফিল্ডের গ্যাস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রিডে ‍যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫০টি কূপ খনন প্রকল্পের বাকি কূপগুলোর মধ্যে ১৮টির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে। তিনটি ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ছয়টি কূপে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান।

প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মনে করেন, ‘৫০টি কূপ খনন চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বিষয়টি এমন নয়, তবে সবগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। শেষ করতে মোটামুটি ২০২৬ সাল নাগাদ সময় লাগতে পারে।’

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। বাকি এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস গ্রিডে যুক্ত না হওয়ায় নতুন করে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পেট্রোবাংলা। ২০২৮ সালের মধ্যে এসব কূপ খনন করা হবে।

জানা গেছে, গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগামী বছর ১৯টি কূপ খনন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পেট্রোবাংলা। এর মাধ্যমে নতুন করে ২৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আরও