ফেনীতে ১০৮টি সুন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার ও এক পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার ফেনীর বিসিক মোড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তিনটি ক্যারেটে ভর্তি ১০৮টি কাছিম উদ্ধার করেন ফেনী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা।
উদ্ধার হওয়া ১০৮টি সুন্ধি কচ্ছপ স্থানীয় কাজিরবাগ ইকোপার্কে ও কালীদাস পাহালিয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কাছিমগুলো উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গতকাল দুপুরে এগুলো অবমুক্ত করেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
কাজিরবাগ ইকোপার্কে কাছিমগুলো অবমুক্তকরণের সময় অন্যান্যের মাঝে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অং প্রু মারমা, ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন, সামাজিক বন বিভাগ ফেনী সদরের রেঞ্জ অফিসার বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, ফেনী বন্যপ্রাণী রেস্কিউ টিমের ফাউন্ডার সাইমুন ফরাভী প্রমুখ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর বিসিক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ক্যারেটে ভর্তি ১০৮টি কচ্ছপ উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পাচারকাজে জড়িত কণক চন্দ্র দাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত উপানন্দ চন্দ্র দাসের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আটককৃত ব্যক্তি নোয়াখালীর চরাঞ্চল থেকে এসব কাছিম সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক বন বিভাগ ফেনী সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘পুলিশের হাতে উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো ফেনীর কাজিরবাগ ইকোপার্কের পুকুরে ও কালীদাস পাহালিয়া নদীতে উন্মুক্ত করা হয়েছে।’
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, সুন্দি কচ্ছপ স্থানীয়ভাবে ‘চিতি কাছিম’ নামেও পরিচিত। দুই থেকে তিন দশক আগেও দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ইত্যাদি জলাশয়ে প্রচুর সুন্দি কচ্ছপ দেখা যেত। তবে বাসস্থান ধ্বংস ও ক্রমাগত শিকারের কারণে এ জলজ প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অংপ্রু মারমা বলেন, ‘উপজেলার কাজিরবাগ ইকোপার্ক ও কালীদাস পাহালিয়া নদীতে কাছিমগুলো অবমুক্ত করা রয়েছে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুন্ধি কাছিম স্থানীয়ভাবে চিতি কাছিম নামেও পরিচিত। দু-তিন দশক আগেও দেশের নদ-নদী, খাল-বিল-হাওরে প্রচুর সুন্ধি কাছিম দেখা যেত। বাসস্থান ধ্বংসের ফলে এ প্রজাতির কাছিম ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ সংঘের লাল তালিকায় সুন্ধি কাছিমকে কম উদ্বেগের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রাণীটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর তফসিল-২ অনুযায়ী সংরক্ষিত। এটি হত্যা বা ক্ষতিসাধন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।