মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হয় আমি থাকব না হয় অনিয়ম থাকবে

হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল সকালে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। সেই সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে সেবার মান নিয়ে কথা বলেন।

এ সময় হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি ১৫-২০ জন রোগীর কাগজ দেখেছি, সব ফটোকপি নিয়েছি। এ সকল ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করানো হয়েছে। গতকাল একটা ভিডিও বের হয়েছে, কারা কারা এসেছে—ওই নামগুলোও আমার কাছে আছে। ওইটাই দেখে গেলাম। ওই অনিয়মটা দেখে গেলাম, আপনারাও (সাংবাদিকরা) দেখেছেন। পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেয়ার, আমরা দেখব। দোয়া রাইখেন—(অনিয়ম) থাকবে না। হয়তো আমি থাকব, আর না হয় এটা (অনিয়ম) থাকবে—দুইটার একটা হবে।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবার অনিয়ম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একদিনে সব পারব—এটা বলি না, বাট যখন যেটা জানব, শক্ত হাতে এটা দমন করব। এবং এখানে যা দেখে গেলাম, জাস্ট ওয়েট ফর অ্যানাদার টোয়েন্টিফোর আওয়ারস হোয়াট আই অ্যাম গোয়িং টু ডু।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাইরের সততা, জমজম আরো কী কী ফেরিওয়ালার মতো ব্লাড কালেক্ট করে নেয়। বাইরে থেকে আমার রোগীরা টাকা দিয়া ব্লাড টেস্ট করায়। একটা শূন্য ভাণ্ডার নিয়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফ্যাসিস্টদের পরে। এর পরও আমরা কষ্ট করে টাকা দিচ্ছি, জনগণের টাকাই জনগণের জন্য দিচ্ছি। সেই টাকার সুবিধা জনগণ এখানে পাচ্ছে না। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের ব্লাড বাইরে থেকে এসে ফেরিওয়ালার মতন কালেক্ট করে নিয়ে যায় টেস্ট করানোর জন্য।’

এক সাংবাদিক জানতে চান, এ অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কিনা?

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অফকোর্স দায় আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিনের বেলা ব্লাড নেয়, এটা আমাকে প্রশ্ন করা লাগে? দিনের বেলা বাইরে ফেরিওয়ালার মতো এসে ব্লাড নেয়, এটা দায় থাকবে না মানে? অফকোর্স দে আর রেসপনসিবল ফর দ্যাট।’

জানা গেছে, হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাপ্রত্যাশীরা। বিষয়টি নজরে এলে সরজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাইরে যত জায়গায় যাচ্ছি, আমি মশারি পাচ্ছি ডেঙ্গু রোগীদের। কিন্তু এখানে দেখি নাই বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও তেমন কোনো মশারির ব্যবহার করে না। বাট এটা কিন্তু ম্যান্ডেটরি। এটা আজকে থেকে আরো কঠিনভাবে মনিটর করব। রোগীরাও অনেক সময় নিতে চায় না, বাধ্য করতে হবে মশারি নিতে। কারণ আদারওয়াইজ আমার ভালো রোগীগুলি অসুস্থ হয়ে যাবে। এটা এখানে আপনারা ম্যান্ডেটরি করবেন আজকে থেকে মশারির ব্যবহার।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আরো তিন মাস আগে থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিউরের চাইতে প্রিভেনশনের ওপর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা জোর দিয়েছি। এখন সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় আমাদের ডিসি মহোদয়, ইউএনওরা সমন্বিতভাবে সিভিল সার্জন, ডাক্তারদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছি। এমনকি আপনারা জানবেন, আমরা বরিশালে পিরোজপুর জেলায় সুপারি গাছ—তারা বয়স্ক সুপারি গাছ কেটে ফেলে; আধা হাত, এক হাত থেকে যায় গোড়াটা। ওইটার আঁশ যখন পচে যায়—পানি জমে ওটাতে, লার্ভা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওখান থেকে রিপোর্ট করার পর সমস্ত গাছ আমরা কাটিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাট আমাদের দেশটা খানাখন্দতে ভর্তি। যত্রতত্র লার্ভা সৃষ্টি হয়। সে লার্ভা মারার জন্য পয়সা খরচ করে ট্যাবলেট ইউজ করতেছি। সিটি করপোরেশন তিন মাস যাবৎ স্প্রে করতেছে মশা মারার জন্য। যেই কারণে মশা এবার একটু লেটলি এসে আমাদেরকে আক্রমণ করেছে।’

আরও