কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ

শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অপ্রতিমের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেন।

গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার ২১ ঘণ্টা পর কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।

গতকাল বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলার জঙ্গলে মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তার পরনে পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিল। মুখ ও বুকে দেখা যায় রক্তের কালো ছোপ।

এদিকে, নিহত অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর গতকাল রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহতের পরিবার জানায়, আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতীমের নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লায় দাফন করা হবে।

অপ্রতিমের সন্ধান চেয়ে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছিলেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি জানান, শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। ছেলেকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতাও চান তিনি।

নাহিদা বেগম জানান, বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছিল। অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবে ফোন নম্বর অনুসরণ (ট্র্যাক) করেও অপ্রতিমের অবস্থান পাওয়া যায়নি। তার ধারণা ছিল, ফোনটি হয়তো অপ্রতিমের সঙ্গে ছিল না।

শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অপ্রতিমের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেন।

রাতভর ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় উৎকণ্ঠায় ছিলেন অপ্রতিমের মা-বাবা। গতকাল মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তাদের সে অপেক্ষার অবসান হলেও ফিরে এসেছে সন্তানের নিথর দেহ।

অপ্রতিম ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

গতকাল দুপুরে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় ড. নাহিদা বেগমের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সংসদ সদস্যের কাছে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে?’

গতকাল রাত ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রথমে সন্দেহভাজন তুহিন ও তাকে জিজ্ঞসাবাদের পর আনাস ও ফাহিম নামে আরো দুজনসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের জন্য এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও