নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক তিন নদীর মোহনা

অবৈধ স্থাপনা আর হকারের দখলে চাঁদপুরের প্রধান পর্যটন এলাকা

চাঁদপুরের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বড় স্টেশন বাঁধ। চাঁদপুর শহরকে পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর প্রবল স্রোত এবং ঘূর্ণির প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য তিন নদীর মোহনায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

চাঁদপুরের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বড় স্টেশন বাঁধ। চাঁদপুর শহরকে পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর প্রবল স্রোত এবং ঘূর্ণির প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য তিন নদীর মোহনায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলেই তৈরি হয় ত্রিকোণাকৃতির মোলহেড, যা আজ চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্যের প্রতীক। চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার ভ্রমণপিপাসু মানুষ নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে একান্ত কিছু সময় কাটাতে এখানে আসে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনও নজরদারি রেখেছে। সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। তবে অস্থায়ী কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান, ভিক্ষুক আর হকারের দখলে এ স্থান।

গত ২৩ মার্চ রেলওয়ের অভিযানে ৬০ দোকান উচ্ছেদ করা হলেও রেল ও পাবলিকের কিছু ঘর, দোকান উচ্ছেদ করা হয়নি এখনো। রেলওয়ে‌ বলছে তাদের নিজস্ব ঘর আছে কিছু। এগুলো উচ্ছেদ করা হবে না। এগুলোতে পর্যটন কেন্দ্রেরই অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করবেন বলে জানা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের এসব ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও পর্যটন কেন্দ্রের কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। রেলওয়ের ঘরের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা কিছু ঘর রয়েছে যেগুলো উচ্ছেদের আওতায় আনা উচিত বলে আগত দর্শনার্থীরা মনে করেন।

সম্প্রতি উচ্ছেদ কার্যক্রমে ভ্রমণপিপাসুদের কিছুটা স্বস্তি এলেও এখনো বিড়ম্বনায় পড়ছেন আগত দর্শনার্থীরা। উচ্ছেদের পরও অনেক ভ্রাম্যমাণ দোকান এখনো পর্যটন এলাকায় দেখা যায়। তাছাড়া রয়েছে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। রাতের বেলা মাদকসেবনকারীদেরও আড্ডা জমে।

পাশাপাশি মোলহেডে বহু ভিক্ষুক ও পথশিশু ভিক্ষা করেছে। তারা দর্শনার্থীদের টাকা দেয়ার জন্য জোরপ্রয়োগ করছে। যদি কেউ টাকা দিতে না চায় তাহলে তাদের হাত-পা ধরে টানাটানি করছে। এখানে ঘুরতে আসা অনেককেই এভাবে বিড়ম্বনার শিকার হতে দেখা যায়।

এছাড়াও হকারদেরও প্রচুর ভিড়। সারাদিন হাঁটাহাঁটি করে ক্লান্ত হলে সেখানে অবস্থিত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য রাখা বসার স্থানেই তাদের বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। এতে সাধারণ দর্শনার্থীদের অনেক সময় বসার জায়গাটুকুও থাকে না।

দর্শনার্থীরা বললেন, এমন সুন্দর জায়গাটিকে আরো পরিপাটি করে রাখা উচিত। পাশাপাশি হকারদের অবস্থান আলাদাভাবে বাইরে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জানা যায়, ভ্রমণপিপাসু মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ নিশ্চিত করতে গত বছরও জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। কিছুদিন পর আবারো বেদখল হয় বিনোদন এ এলাকা। এছাড়াও বড় স্টেশনের মোলহেডের উত্তর দিকে নদীসংলগ্ন কিছু অবৈধ বসতঘর স্থাপন করা হয়েছে। যার জন্য এ এলাকাটি হুমকির সম্মুখীন রয়েছে। কারণ নদী ভাঙনরোধ করার ব্লকের ওপর ঘরগুলো স্থাপনে বিপজ্জনক করে তুলছে এ স্থানটিকে। পাশাপাশি অধিক দর্শনার্থীদের ভিড়ে স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে কিনা তাও নজরে রাখছে প্রশাসন।

বিগত বর্ষায় দর্শনার্থীদের অধিক ভিড়ে স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রাখে কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছরই তিন নদীর মোহনার স্থান দিয়ে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অনেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান স্থাপন করলেও কেউ কেউ আবার স্থায়ী স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে রেলওয়ে বলছে, এ স্থানে কেউ স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো স্থাপনা করতে পারবে না।

এ বিষয়ে রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মারুফ বণিক বার্তাকে জানান, ২৩ মার্চ এ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ছিল পাবলিকের। বাকি যে কয়টা লালঘর রয়েছে এগুলো রেলওয়ের। এগুলা উচ্ছেদ করা হবে না। চুরি ছিনতাইয়ের ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ স্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। আরো কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও