মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সঙ্গে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার বসু দত্ত চাকমা জানান, ভোর রাতে শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি চা বাগান এলাকায় র্যাববের টহল গাড়ী লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন র্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত দুজনের মধ্যে তোফায়েল মিয়া ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান হত্যা মামলার মামলার এজাহারভুক্ত ২ নাম্বার আসামি ও নিহত শহীদ মিয়া ওই মামলার ৮ নাম্বার আসামি। দুইজনের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট এলাকায়। তাদের নিজ নিজ পরিবার মরদেহের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবে পুলিশ বা র্যা ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, গত ৩১শে অক্টোবর রোববার কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসানকে। ওইদিন সন্ধ্যায় সিলেটে তার মৃত্যু হয় । এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, নিজ কার্যালয়ের সামনে নাজমুল হাসানকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করে একদল যুবক।
মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে নাজমুল জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন স্থানীয় তোফায়েল, রাসেল, মাসুদ ও তোফাজ্জল।
নাজমুলের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই শামছুল হক তোফাজ্জলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েক জনের নামে মামলা করেন। মামলার পরের দিন এজারভুক্ত ১ জনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ৪ তারিখ ভোরে ঢাকা থেকে আরও দুইজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে মৌলভীবাজার পুলিশ। একইদিনে আরও ৪ জন আসামিকে গ্রেফতারের খবর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জানায় র্যা ব।