পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান

আটক ৮৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো তিনদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে ডিজে পার্টিতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরুষদের এক মাস এবং নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযানে মদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, বাড়িটির কাছে পৌঁছার আগেই আশপাশের মসজিদ এলাকা থেকে উচ্চ শব্দে গান শোনা যাচ্ছিল। ভেতরে গিয়ে পাঁচটি কক্ষে ডিজে পার্টি চলতে দেখা যায়। কক্ষগুলো সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল।

ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো তিনদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অভিযানে মদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন ডিবির এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বাড়িটির একজন কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে সেখানে এ ধরনের আয়োজন চলছিল। মাসে প্রায় ২০-২২টি অনুষ্ঠান হতো। বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়া হতো। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিবন্ধনকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেয়া হতো। প্রতি আয়োজনে প্রায় ১০০ জন অংশ নিলে শুধু নিবন্ধন ফি থেকেই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ আসত।

অভিযানে মাদক উদ্ধারের পরও কেন নিয়মিত মামলা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামারুম মুনিরা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাদক উদ্ধারের বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও