খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার অবরোধ প্রত্যাহার

খাগড়াছড়িতে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের পর এবার প্রত্যাহার করেছে জুম্ম ছাত্র-জনতা।

খাগড়াছড়িতে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের পর এবার প্রত্যাহার করেছে জুম্ম ছাত্র-জনতা। গতকাল সকালে সংগঠনটির ফেসবুক পেজ থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সংগঠনের ফেসবুক পেজে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

জুম্ম ছাত্র-জনতা জানায়, খাগড়াছড়ি ও গুইমারার ঘটনায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জুম্ম ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় জুম্ম ছাত্র-জনতার আট দফা মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এ আশ্বাস বিবেচনায় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুম্ম ছাত্র-জনতার সদস্য কৃপায়ন ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘দ্রুত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে জুম্ম ছাত্র-জনতা আরো কঠোর ও অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করতে দ্বিধা করবে না।’

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, অবরোধ প্রত্যাহরের কারণে জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। যানবাহন চলাচল করছে। দোকানপাট খুলেছে, মানুষজন কেনাকাটা করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে পুলিশি নিরপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এর প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে গত ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে অবরোধ ডাকা হয়। পরদিন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ডাক দেয় সংগঠনটি।

অবরোধের মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গুইমারার রামেসু বাজার। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন। সেনাবাহিনীর মেজরসহ আহত হন অন্তত ২০ জন।

আরও