জাতীয় নির্বাচনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আসন ফেনী-১। নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ১৯৭৩ সালের পর হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। এছাড়া তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হবেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে দলটির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া নিয়ে ফেনী-১ আসন গঠিত। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুস সালাম, অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী মুসলিম গ্র্যাজুয়েট বেগম সামছুন্নাহার, হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিরা। এছাড়া ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে জাফর ইমাম বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকারিয়া ভূঞাকে পরাজিত করে খালেদা জিয়া সর্বপ্রথম বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম ওয়াজী উল্লাহ ভূঞাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯৬ সালের পুনর্নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর ইমামকে পরাজিত করে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফাইজ আহমেদকে পরাজিত করে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। তবে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। ২০১৮ সালে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন শিরীন আখতার।
আসনটি পুনরুদ্ধারে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ, সদস্য মিজানুর রহমান মজুমদার ও ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা নাসিম কোনো কারণে বাদ পড়লে ওই আসনে মিজানুর রহমান অথবা শেখ আবদুল্লাহ মনোনয়ন পেতে পারেন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এছাড়া বিগত দুই মেয়াদ এ আসনে জোট থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন শিরীন আখতার। তিনি এবারো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জাসদ থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন।
আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোয়ও আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আমার আগ্রহ ছিল না। এবার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ভোটারদের অনুরোধে আমি মনোনয়ন চেয়েছি। মনোনয়ন পেলে ভোট করব। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রত্যাশা, যিনি এলাকার উন্নয়নকাজে আগে থেকেই জড়িয়ে ছিলেন—এমন ব্যক্তি প্রার্থী হবেন। এক্ষেত্রে আমি দুই অংশেরই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছি।’
তবে পর পর দুই মেয়াদে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি শিরীন আখতারের। মানুষ এখন তার সঙ্গে আছে দাবি করে এই জাসদ নেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফেনীর এ অঞ্চলে খালেদা জিয়া বারবার নির্বাচিত হলেও তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।’