ধর্ষণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি (দুই বছর মেয়াদি) আটটি ও দীর্ঘমেয়াদি (পাঁচ বছর মেয়াদি) দুটি দাবি রয়েছে।
আজ বুধবার (১৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন: আইনগত সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় ১৭টি সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজ্ঞ ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ধর্ষণ আইন সংস্কারের প্রচারণা ২০১৮ সালে শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা। পাশাপাশি এসব সমস্যা দূর করতে সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা।
তারা আরো বলেন, সম্প্রতি দেশে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এসব প্রতিরোধ ও ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আইন সংস্কার জরুরি। তাই ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে।
এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি দাবিগুলো হলো— মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধর্ষণ আইনের সংস্কার করা, ধর্ষণের সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করে সেটি বৈষম্যহীন করা, ধর্ষণের আইনে পেনিট্রেশনকে সংজ্ঞায়িত করা, ধর্ষণ অপরাধে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা, (ক) ধর্ষণ মামলায় অভিযোগকারী ধর্ষণ অপরাধে ভুক্তভোগী ব্যক্তির চরিত্রগত সাক্ষ্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা ও (খ) দুই আঙ্গুলি পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা, বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠক্রমে সম্মতি সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ২ দফা দাবি হলো— শাস্তির আনুপাতিকতা প্রদান করা ও সাজা দেয়ার নির্দেশিকা প্রবর্তন করা এবং ধর্ষণ অপরাধে ভুক্তভোগী ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্র পরিচালিত একটি ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, বিচারককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না। আমরা যখন কাজ করেছি, সত্যটাই সামনে এনেছি। যিনি ধর্ষক, তিনিও সমাজেরই একজন। তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে না তোলার দায় আমাদেরই। আইন সংশোধন করে কতটা লাভ হবে, যদি সমাজকে গড়ে না তোলা যায়?
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী ও নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মাহীন সুলতান।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়া বিষয়ক সুপারিশমালা তুলে ধরেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার এবং ব্লাস্টের সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা ফাহাদ বিন সিদ্দিক।