গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ দাফনের প্রায় ২৬ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গতকাল তাদের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছিল।
গতকাল সকাল ৮টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন এলাকায় প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও চাঁদপুর পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শক চাঁদ মিয়া বলেন, ‘কবর থেকে উত্তোলনের পর মরদেহ দুটি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে।’
নিহত সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খান একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সেলিম খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির একাধিক মামলা এবং কারাবাসের তথ্যও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন এলাকা ছাড়ার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন।