বিশ্বাসের ভিত্তিতে (এলটিআর) নেয়া ২৫০ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জনতা ব্যাংক থেকে নেয়া এসব টাকা ব্যাংকের চার কর্মকর্তার যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে এসে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তদন্ত চলাকালে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও অবসরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাদের পদোন্নতি পাইয়ে দিতে তদন্তে ধীরগতি ছিল কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) মঈদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মামলা তদন্তের জন্য ১২০ কার্যদিবস দেয়া রয়েছে। প্রয়োজনে আরো ৬০ কার্যদিবস নিতে পারবেন তদন্ত কর্মকর্তা। মোট ১৮০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে। কিন্তু তা হয়নি। এটাতেই বোঝা যায়, তদন্তে ধীরগতি ছিল।’
দুদক বলছে, এলটিআর (লেটার অব ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ও পিএডির (পেমেন্ট অ্যাগেইনস্ট ডকুমেন্ট) শর্তানুযায়ী মালপত্র বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনা মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. টিপু সুলতান এ ঋণ নিয়েছিলেন। জনতা ব্যাংকের চার কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ অভিযোগে ঋণগ্রহীতা ও জনতা ব্যাংকের চার কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
অন্য আসামিরা হলেন জনতা ব্যাংক লোকাল অফিসের সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার বর্তমানে ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এফএজিএম) মো. মসিউর রহমান, লোকাল অফিসের সাবেক ম্যানেজার (এফএজিএম) বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের এজিএম (আমদানি) এএস জহুরুল ইসলাম, লোকাল অফিসের সাবেক এজিএম (আমদানি) বর্তমানে ডিজিএম (আমদানি-রফতানি) শামীম আহমেদ খান ও লোকাল অফিসের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (আমদানি-রফতানি) পরে মহাব্যবস্থাপক পদ থেকে অবসরে যাওয়া মো. মনজুরুল ইসলাম এবং ঢাকা ট্রেডিং হাউজের কমার্শিয়াল অফিসার সাইফুল ইসলাম।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের নামে ঋণ নিয়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন। তারা এলটিআর ও পিএডির শর্তানুযায়ী মালপত্র বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনা মূল ঋণ ২৫০ কোটি ৯৬ লাখ ১ হাজার ৪৫৫ টাকা পরিশোধ করেনি। এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম যেকোনো দিন আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করবেন।
তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম মামলাটি (নম্বর-২২) দায়ের করেছিলেন।
মাদমলার এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ২৭২ কোটি ৮৮ হাজার টাকার ভুয়া ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে ঋণ মঞ্জুর করেন। আসামিরা মার্জিন বাবদ ১৬ কোটি ৭২ টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন।
ঢাকা ট্রেডিং হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. টিপু সুলতানকে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ খুলনা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিন বিকালে খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের মাধ্যমে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তার বাড়ি বগুড়া সদর। ঢাকা ট্রেডিং হাউজের কমার্শিয়াল অফিসার সাইফুল ইসলামের বাড়ি খুলনার টুটপাড়ায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টিপু সুলতানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আরো একটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) থেকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় এ চার্জশিট দেয়া হয়েছিল। এছাড়া টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে রূপালী ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে আরো প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান।