নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ নারীর কথা খুব কমই ভাবা হয়েছে। এখানে নারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'উইমেন অ্যান্ড এনার্জি কার্নিভাল- ২০২৫' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাগত বক্তব্য মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়টি এখনো আমাদের কাছে পরিচিত না। বাংলাদেশের জন্য তা আরো কঠিন। এটি নিয়ে কাজ আমরা কম দেখি। ভবিষ্যতে এ জ্বালানি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কারণ ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাস কমে আসবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়বে।
তিনি বলেন, নারীরা দৈনন্দিন কাজে জ্বালানির ব্যবহার করে থাকেন। যদি নারীর কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকতো, তাহলে তারা সেটার মাধ্যমে উপকৃত হতো। বর্তমান সরকার একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ তৈরি করেছে, সেখানে নারীর কথা খুব কমই ভাবা হয়েছে। অথচ এ জায়গায় নারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক (রাইটস অ্যান্ড গর্ভনেন্স) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখনো সব অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই। আমরা নারীর নেতৃত্ব দেখতে চাই সব জায়গায়। গৃহস্থালির কাজ বা সেবা কাজের সঙ্গে নারীর একটি সম্পর্ক আছে। জ্বালানি বা পানি সংগ্রহ করতে নারীর অনেক সময় নষ্ট হয়। যার কারণে সে তার সময় অন্য কাজে লাগাতে পারছে না। সব কিছু মিলিয়ে এ পরিবর্তনটা দরকার মনে করছি। সেক্ষেত্রে আমাদের যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা রয়েছে সেটিরও পরিবর্তন দরকার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ বলেন, এটা শুধু টেকনিক্যাল শিফট না, এটা মানবিক ইস্যু। আমরা যখন ইনক্লুসিভ ওয়েতে নারীদের নিয়ে কথা বলি, তখন শুধুমাত্র ঘরের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ে পড়ে থাকি। এটিতে নারী নেতৃত্বও জড়িত। এ ধারণা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে৷ পরিবর্তনটা বিশ্বব্যাপী হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু বাংলাদেশেই চ্যালেঞ্জিং না, এটি বিশ্বব্যাপী একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে উঠেছে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দরকার।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কথা বলেছে। এটিতে নারীর সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট হচ্ছে। পুরো দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। সবাই হবে উৎপাদক ও ভোক্তা। অর্থাৎ নিজেরাই উৎপাদন করবে এবং ভোগ করবে। আগামী দিনে আপনারা শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নন, উৎপাদনকারীও বটে।