কলকাতায় হোটেলে আগুন : স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুরসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিকের মৃত্যু

মঙ্গলবার রাতে হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলে অবস্থানরত কয়েকজন আটকা পড়েন। এর মধ্যেই প্রাণ হারান দেবাশীষ দত্তসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য। তাদের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল।

ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন সাংবাদিক দম্পতি দেবাশীষ দত্ত ও আফশানা শিম্মিন। বেঙ্গালুরু থেকে ফেরার পথে কলকাতায় যাত্রাবিরতিই যে তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে, তা কে জানত! ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে প্রাণ হারিয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফশানা শিম্মিন (২৮), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে কুষ্টিয়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের চার সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী সাংবাদিক, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত দেবাশীষ দত্ত পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট স্ত্রী আফশানা শিম্মিন, তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান দেবাশীষ দত্ত। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তারা কলকাতায় ফেরেন। এরপর একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

মঙ্গলবার রাতে হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলে অবস্থানরত কয়েকজন আটকা পড়েন। এর মধ্যেই প্রাণ হারান দেবাশীষ দত্তসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য। তাদের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল।

সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা—পরিবারের আট বছর বয়সী মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় সে বাবা, মা, ছোট ভাই ও নানার সঙ্গে ভারতে ছিল না। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মা, ছোট ভাই ও নানাকে হারিয়ে তার পৃথিবী যেন একসঙ্গে শূন্য হয়ে গেল।

কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশী ও একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। ভারতের পিটিআই, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।

জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশীরা বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট কলকাতায় ফেরেন। দেশে ফেরার আগে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে নেমে আসে শোকের আবহ। সহকর্মীরা তাঁকে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করছেন। স্থানীয় সাংবাদিক, সহকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও