এতে নির্ঘুম রাত ও আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মাপারের মানুষের। অসময়ে নদীভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মুন্সিপাড়া কবরস্থান, ঈদগাহ, মুন্সিপাড়া জামে মসজিদসহ কয়েকশ ঘরবাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে নদীতে হারিয়ে যায় ৫০-৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে। এখনই নদীভাঙন রোধ না করলে নদীপারে যারা বসবাস করে তাদের ভিটেমাটি ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
সরজমিনে দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজারের ভাঙনকবলিত স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকা কাঁচা ধান ও পাটসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ সময় ভাঙনের কবলে পড়া ধানখেতের মালিক মো. হাবিজল সরদার বলেন, ‘আমার প্রায় ৩ শতাংশ জমি-ধানসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে পাটখেতসহ অন্যান্য আবাদি জমি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) প্রশাসন। এরপর সরকারি জিও ব্যাগ ফেলা হয়, ততক্ষণে ৫০-৬০ বিঘা জমি চলে যায় পদ্মার বুকে। এভাবেই মানচিত্র থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে গোয়ালন্দ উপজেলার কয়েকটি এলাকা।’
একই এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানা বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীর তীর রক্ষার কথা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও দেবগ্রাম ইউনিয়নে ভাঙন রোধেও নেয়া হয়নি যথাযথ পদক্ষেপ।’
কৃষক জালাল সরদার বলেন, ‘কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ৫ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুল, কবরস্থান, ঈদগাহসহ কয়েকশ ঘরবাড়ি। ভাঙন দেখতে স্থানীয়রা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। ভাঙন আতঙ্কে শত শত পরিবার নদীপারে এখন দিন কাটাচ্ছে। জমির পাট কাঁচা অবস্থায় তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘অসময়ে নদীভাঙনে ফসলের ক্ষতি হবে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’