টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনায়েদ বলেন, ‘এটি একটি বেসরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রথম যে ভবনটিতে আগুন লাগে, সেটি চারতলা।

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পাশের আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা দেড়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ দাহ্য হওয়ায় আগুনের তীব্রতা বাড়ে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শ্বাসকষ্টের কারণে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী আহত হয়েছেন।

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনায়েদ বলেন, ‘এটি একটি বেসরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রথম যে ভবনটিতে আগুন লাগে, সেটি চারতলা। ওই ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটি একটি সিঁড়ির মাধ্যমে পাশের আরেকটি ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় আগুন সেখানে ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বের করে আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরোপুরি কাজ শেষ হওয়ার পর কতজন আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও কারখানায় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুনায়েদ বলেন, ‘ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, অ্যালুমিনিয়াম পেপার ও এর নিচে থাকা রাবার আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এসব পদার্থ অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।’

কারখানাটিতে পাউডার ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো ওষুধ তৈরি হতো উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় ভবনের ভেতরে ছোট ছোট বিস্ফোরণের মতো আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় ক্লোরিনের গন্ধে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বিশেষ যন্ত্র (ব্রিদিং অ্যাপারেটাস) ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যান।’

অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের কেমিক্যাল টেন্ডার ইউনিট পাঠিয়েছে। বিজিবি মেডিকেল টিম ও লোকজন পাঠিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ও সাহসী কর্মী এবং কর্মকর্তারা কারখানার কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। রাসায়নিক পদার্থের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কয়েকটি ইউনিটও এ কাজে যুক্ত ছিল।’

আরও