কাপাসিয়ায় ৫ জনকে হত্যা: পদ্মা থেকে মরদেহ উদ্ধার, অভিযুক্তের কিনা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুর আলম বলেন, উদ্ধার মরদেহের পরিচয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে মরদেহটি কার।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার আলোচিত ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ঘোরদৌড় এলাকায় পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহ প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার কিনা, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য উদ্ধার হওয়া মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের স্বজনদের কাছ থেকেও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে শনিবার বিকালে পদ্মা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শারীরিক গঠন ও পরনের কিছু আলামত দেখে নিহতের স্বজনরা ধারণা করছেন, এটি ফোরকান হতে পারেন। তবে পুলিশ বলছে, পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুর আলম বলেন, উদ্ধার মরদেহের পরিচয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে মরদেহটি কার।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফোরকানের কিনা, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আমরা আশা করছি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা হতে পারেন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।

গত ৯ মে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তিন কন্যাসন্তান মীম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মোল্লা (২২)-এর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্তে জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত তথ্য, আলামত ও ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

আরও