বিআইআইএসএসে প্রশিক্ষণ উদ্বোধনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশের

হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম সফল উন্নয়ন মডেল গড়েছে। দেশটি প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তুলেছে। ব্যাপক বাজার সংস্কারও করেছে চীন। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও সৌরশক্তিতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। উন্নত উৎপাদন ও গবেষণায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এসব সাফল্য থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের

চীনের চার দশকের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রফতানি বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শূন্য শুল্ক সুবিধাও এতে সহায়ক হতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থানান্তরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া উৎপাদন খাতে সহযোগিতা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অংশীদারত্বও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আজ এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিআইআইএসএস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কম্পারেটিভ গভর্নেন্স ফোরাম ২০২৬-এর আয়োজন করেছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম সফল উন্নয়ন মডেল গড়েছে। দেশটি প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তুলেছে। ব্যাপক বাজার সংস্কারও করেছে চীন। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও সৌরশক্তিতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। উন্নত উৎপাদন ও গবেষণায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এসব সাফল্য থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, শূন্য শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উৎপাদন খাতে সহযোগিতাও বাড়তে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থানান্তরের সুযোগও রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি বহুমুখীকরণের সুযোগও তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠক এই সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫০ বছরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়তে পারে। অবকাঠামো ও সংযোগেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা মানে অনুকরণ নয়। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। তবে তা হবে নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক চেন ঝিমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, নতুন যুগে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি সেই ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বিআরআই বাস্তবায়নে দুই দেশ একমত। উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়ও জোরদার করা হবে।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য হয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণেও দুই দেশ একমত। চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরও এগিয়ে নেয়া হবে। এতে বাস্তবমুখী সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে। ইয়াও ওয়েন বলেন, পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতিও রয়েছে। লক্ষ্য প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নতুন শাসন–চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা। এ বিষয়ে দুই দেশ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর বিআইআইএসএস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা, একাডেমিক বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ প্রকাশনা এবং নীতি সংলাপে সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

আরও