উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে চার শতাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল বর্জ্য

ঝুঁকিতে গাজীপুরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

গাজীপুরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে চার শতাধিক। কিন্তু এর একটিতেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। জেলায় এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও নেই। এ কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় উৎপাদিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে।

গাজীপুরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে চার শতাধিক। কিন্তু এর একটিতেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। জেলায় এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও নেই। এ কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় উৎপাদিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে। এর মধ্যে দু-একটি সরকারি হাসপাতালের বর্জ্য পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন নিয়ে গেলেও বাকিগুলোর বর্জ্য সেভাবেই পড়ে থাকছে দিনের পর দিন। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল নামে দুটি বড় আকারের হাসপাতাল রয়েছে। এর বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে চারটি। এছাড়া জেলায় রয়েছে আরো ৪০৭টি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতাল। তবে এসব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের একটিতেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সাধারণ বর্জ্যের পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থান, জলাশয় ও পতিত জমিতে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির বর্জ্য পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে নদী, খাল বা সড়কের ধারে ডাম্পিং করছে।

সূত্র জানায়, চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮-এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যানাটমিক্যাল বর্জ্য, প্যাথলজিক্যাল বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য, ফামাসিউটিক্যাল বর্জ্য, তরল বর্জ্য, সংক্রামক জীবাণুযুক্ত বর্জ্য, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, ধারালো বর্জ্যসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক বর্জ্য নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, প্যাকেটজাত, বিনষ্ট, ভস্মীকরণ, পরিশোধন, বিশোধন ও অপসারণের কথা বলা আছে। কিন্তু গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি। এ কারণে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে যক্ষ্মা, চর্মরোগ, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিন গাজীপুর শহরে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, এ হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে হাসপাতাল চত্বরের উত্তর পাশে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড বয়রা নির্দিষ্ট ময়লার ঝুড়িতে করে বর্জ্য সংগ্রহ করে সীমানা চত্বরের ভেতরেই ফেলে রাখে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। একই চিত্র দেখা গেছে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, অনেক সময় পাশের নিচু এলাকায় বর্জ্য ফেলা হয়। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা হয় সিটি করপোরেশনের লোকজন নিয়ে যাবে এ আশায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য সব হাসপাতালই বর্জ্য অপসারণে হয় পৌরসভা, নয়তো সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভরশীল।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) পানি ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকরামুল আলম জানান, মেডিকেলের তরল বর্জ্যে যেমন জলাশয় দূষিত হয়ে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনি অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণ করায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকার জানান, বিধি অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইটিপি থাকা বাধ্যতামূলক। আবার অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু জেলার অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দিইনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণ করায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিচালক তপন কান্তি সরকার জানান, জেলার সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালে এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে

আরও