গতকাল সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন আব্দুস সত্তার মিয়া (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহপরিচারিকা (২৫)।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী আব্দুস সত্তার মিয়া চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসাতেই থাকতেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুজন লন্ডনে ও দুজন আমেরিকায় থাকেন।
নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরে বাসায় মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে এক কাজের মেয়ে থাকত। সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৯টার পর তাদের হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আব্দুস সত্তারের বাসা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান কয়েকজন প্রতিবেশী। পরে পাশের একটি ভবন থেকে কেউ ওই বাসার বারান্দার দরজার নিচে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানো হলে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তের কাজ শুরু করেছে।’
হত্যার খবরে পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, ‘বাসার ওয়ার্ডরোব ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্ণসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি-ডাকাতির ঘটনা কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছি।’
তিনি জানান, তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।