নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে সংশয়ে সরকার

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে চলমান আলোচনা হয় দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে, নয়তো পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

গত ৪ জুন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) বাই প্রাইভেট টার্মিনাল অপারেটর আন্ডার পিপিপি’ শীর্ষক প্রকল্পে ইনডিপেনডেন্ট টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডইর সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আলোচনা এগিয়ে নিতে অনিচ্ছুক হলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ চিঠিটি জারি করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ১৮ মে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। পরে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, এর আগে পিপিপি ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনায় ইনডিপেনডেন্ট টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেয়া বা বাতিল করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে বলে উল্লেখ করে চিঠি দেয় পিপিপি কর্তৃপক্ষ। এ চিঠির পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি চিঠি দিয়ে একই নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে। হয় আলোচনা এগিয়ে নেয়া, নয়তো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। দুটি চিঠি মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ আলোচনা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সেই চিঠিতে বলা হয়, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন ২০১৫ এবং গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পার্টনারশিপ নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী এনসিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগে যে মূল্যায়ন কমিটির বিধান উল্লেখ করেছিল, সেটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার জন্য প্রযোজ্য, জিটুজি প্রকল্পের জন্য নয়।

জিটুজি নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৭.৪ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী নির্বাচন এবং পিপিপি চুক্তির শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্বিপক্ষীয় জিটুজি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী পরিচালিত হবে। একই নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৫.২-তেও বলা হয়েছে, জিটুজি পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত কাঠামো নির্ধারিত হবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে গত বছরের ৪ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অনুচ্ছেদ ৪.৬ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী সরকার কর্তৃক নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা চুক্তি কর্তৃপক্ষের গঠিত আলোচনা কমিটির সঙ্গে প্রকল্পের শর্তাদি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে উভয় পক্ষই নিজ বিবেচনায় যেকোনো সময় এ আলোচনা থেকে সরে আসতে পারবে। এ বিধানের আলোকে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় চাইলে চলমান আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আবার ইচ্ছুক না হলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলও করতে পারে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং শাখার পরিচালক শাহিন ইকবাল স্বাক্ষরিত এ চিঠি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত ২৯ এপ্রিলের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে তখন পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির পর মন্ত্রণালয় গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি চিঠি দিয়ে একই নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে। হয় আলোচনা এগিয়ে নেয়া, নয়তো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এটি স্পষ্ট দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ আলোচনা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর দেয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ২৬ এপ্রিল নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকল্পটির দরপত্র মূল্যায়ন ও নেগোসিয়েশন কমিটি গঠনের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় গত ৬ মে একটি পত্র পাঠায়। এরপর গত ১১ মে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা (আইএফসি) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের মধ্যে জুম প্লাটফর্মে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার আলোচনার ভিত্তিতে গত ১৭ মে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পিপিপি কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রণালয়ের পত্রটি পাঠিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে চায়। ১৪ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানায়, এনসিটি প্রকল্পটি জিটুজি পার্টনারশিপ নীতিমালা ২০১৭-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই উন্মুক্ত দরপত্রের জন্য প্রযোজ্য মূল্যায়ন কমিটির বিধান এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল। বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এটি নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে। আগামীতে কে পরিচালনা করবে সেটি নিশ্চয়ই ঠিক হবে দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই।’

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনাল। বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে এটি পিপিপি ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে বন্দর পরিচালনা করে থাকে।

২০০৭ সালে আংশিক এবং ২০১৫ সালে পুরোদমে চালু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের উৎস এনসিটি। প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে টার্মিনালটির আয়। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এবং দীর্ঘদিন ধরে মুনাফায় থাকা দেশের সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনালটিকে বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার সিদ্ধান্তে উঠছে নানা প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সদ্যসমাপ্ত মে মাসে টার্মিনালটিতে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউ (টোয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা এনসিটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মে মাসে টার্মিনালটিতে আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউ এবং রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউ। সব মিলিয়ে গত মাসে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮১ টিইইউ কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। এর আগে এনসিটিতে একক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ওই মাসে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। সর্বশেষ মে মাসের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই রেকর্ড অতিক্রম করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামা প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ফলে আমদানি-রফতানি পণ্য খালাস ও জাহাজ পরিচালনায় সময় কমছে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্যও ইতিবাচক।’

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। পিপিপির ভিত্তিতে টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের মার্চে অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। এরপর ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি)।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক পর্ষদ সদস্য মো. জাফর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে সব অবকাঠামোই তৈরি করা আছে। বর্তমানেও নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এটি দেশের সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে চলছে। এখানকার রাজস্ব পুরোপুরি দেশে থেকে যাচ্ছে। এটা ঠিক বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হলে সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতভাবেই বাড়ে। তবে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে যেখানে সরকারের কোনো বিনিয়োগ নেই সেখানে আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর যুক্ত করাটাই যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি।’

এনসিটি চালুর পর থেকে গত বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। দরপত্র অনুযায়ী তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৭ জুলাই থেকে পরিচালনার দায়িত্ব পায় চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড। বর্তমানে নৌবাহিনীর অধীন এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানেই চলছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালন কার্যক্রম।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিটি ১৫ বছর মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে দরকষাকষির শুরু হয়। কিন্তু সে সময় চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত আর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি করতে পারেনি। এখন আবার এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত প্লাটফর্ম সভায় এনসিটি পরিচালনার বিষয়টি আবারো তুলেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। দুবাইয়ের সভায় এনসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজস্ব, ব্যয় ও জনবল কাঠামোর বিষয়ে আরো স্বচ্ছতা চেয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন মেয়াদ পুনর্বিবেচনা এবং টার্মিনাল আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এনসিটির জন্য আরএফপির (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) মেয়াদের মধ্যেই আলোচনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রয়োজনবোধে একটি সংশোধিত দরপত্র প্রস্তাব দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রায় সাত বছর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। সর্বশেষ প্লাটফর্ম সভায় লজিস্টিকস অবকাঠামোতে আরো নতুন প্রকল্প যুক্ত করে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি।

দুবাইতে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ চারজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অন্যদিকে দুবাই সরকারের পোর্টস, কাস্টমস অ্যান্ড ফ্রি জোনস করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের আবদুল্লাহ আল নেয়াদি, ডিপি ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যুবরাজ নারায়ণসহ চারজন অংশ নেন।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এর আগে বন্দর পরিদর্শনে এসে বলেছিলেন, ‘এনসিটি ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে, পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। যার জন্য সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন।’

আরও