ইনডেমনিটি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যকর নিষিদ্ধ) সরকার নয়-ছয় করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ গণসংলাপে বিদ্যুৎ খাতের সংকট, জবাবদিহি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গণমাধ্যম বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। সংকট মোকাবেলায় সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরেও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।’
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে গণসংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির ও সাংবাদিক কাজল শহীদ।
রিজভী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অন্ধকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। অন্ধকারের পর আলো আসার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।’ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ এবং নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
গণসংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ‘প্রবন্ধের লেখক একতরফাভাবে নিজের বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করেননি; বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজের গবেষণাকে প্রশ্ন করার সুযোগ রেখেছেন। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্ন করতে শেখা। প্রশ্ন করার মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে এবং মানবসভ্যতা এগিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রবন্ধে বিদ্যুতের ব্যবহারকে দারিদ্র্য নিরূপণের একটি সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শুধু এ সূচক দিয়ে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছলেও সব পরিবার সমানভাবে এ সুবিধা ভোগ করতে পারে না।’
রিজভীর মতে, বিদ্যুতের সংযোগ থাকা আর পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করা এক বিষয় নয়। তবে এ ধরনের গবেষণা ও উদ্যোগ ইতিবাচক। কোনো বিষয়কে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা এবং প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোই জ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নেয়।