৫১৮ কোটি টাকার ৩ প্রকল্প

বদলে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুরসহ ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি। আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া এ জেলার সড়ক ও সেতু ব্যবস্থার উন্নয়নে সম্প্রতি নেয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প।

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি। আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া এ জেলার সড়ক ও সেতু ব্যবস্থার উন্নয়নে সম্প্রতি নেয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। এরই অংশ হিসেবে জানুয়ারিতে ৫১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে এ জনপদের চেহারা। এসব প্রকল্পের সরাসরি সুফল ভোগ করবে লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

২৮ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই তিন প্রকল্প উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেঘনা নদীর ওপর ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর সেতু নির্মিত হলে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে দুপারের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রসার ঘটবে। এজন্য এসব প্রস্তাবনার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখার জন্য যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর একটি সড়ক বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সড়কে চারটি সেতু নির্মাণ করা। সেতুগুলো হলো মান্দারী সেতু, দিঘলী সেতু, তেরবেকী সেতু ও মণ্ডলতলী সেতু। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজে সেতুগুলো নির্মাণ করবে মোজাহার এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অন্য একটি প্রকল্প হলো বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশের সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশ প্রশস্তকরণ। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক এবং লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করবে এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও মেসার্স সালেহ আহমেদ জেডি নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার। এটি আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত। অন্য অংশে লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়কের ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে লক্ষ্মীপুর অংশের দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রকল্পের আওতায় পড়েছে দুই কিলোমিটার সড়ক। অর্থাৎ সড়ক দুটির ৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার প্রশস্ত করা হবে। বর্তমানে সড়ক দুটির সংযোগস্থল লক্ষ্মীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে যানজট নিরসনসহ জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।

আরেকটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশালের চর কাউয়া থেকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর অংশে রয়েছে মজু চৌধুরী ফেরিঘাট থেকে লক্ষ্মীপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. মইনউদ্দিন লিমিটেড। প্রকল্পটির মেয়াদকাল গত বছরের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। যদিও এ সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ (আর ১৪৫) প্রকল্পের নকশা আঁকা-বাঁকা করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়কের উভয় পাশ থেকে সমানভাবে প্রশস্তকরণ না করে কমবেশি করা হচ্ছে। এতে সড়কটি আঁকা-বাঁকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত বণিক বার্তাকে বলেন, সড়ক বিভাগের আওতায় প্রকল্পের কাজগুলো সম্পন্ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ জেলার চিত্র বদলে যাবে। এরই মধ্যে লক্ষ্মীপুর-ভোলা বরিশাল ১০ কিলোমিটার সড়কের ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের জুন নাগাদ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই সড়কটি উন্নয়নকাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ (আর ১৪৫) প্রকল্পের অধিগ্রহণ নকশার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে সড়কের দুপাশে সমান হারে জমি অধিগ্রহণের কথা। এজন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে যেসব অংশে সরকারি খাসজমি পাওয়া যাবে, সেসব অংশেই বেশি অধিগ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানা জমি অন্যায়ভাবে অধিগ্রহণের প্রশ্নই আসে না। এ প্রকল্প ঘিরে একটি চক্র বাজারের ভিটা মালিকদের ভুল বুঝিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তাই প্রতারিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও