৭৮ পদের বিপরীতে ২১ শিক্ষক নানাবিধ সংকটে রাবির চারুকলা অনুষদ

আটটি ডিসিপ্লিনে অনুমোদিত ৭৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। ফলে ৫৭টি পদই শূন্য।

শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষের অপ্রতুলতা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের অভাব, বাড়তি ব্যয় এবং দীর্ঘ সেশনজটে জর্জরিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদ। আটটি ডিসিপ্লিনে অনুমোদিত ৭৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। ফলে ৫৭টি পদই শূন্য। এতে নিয়মিত পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। প্রয়োজনীয় শিল্প-উপকরণ ও পরীক্ষার সামগ্রীর বড় অংশও নিজেদের অর্থে কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিটি শাখার আলাদা কোড, কারিকুলাম, ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল ও ডিগ্রি রয়েছে। শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনায় প্রতিটিতে অন্তত ১৫-১৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও কোনো কোনো শাখায় শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন বা দুজন। ২০০৯ সাল নাগাদ অনুষদে শিক্ষক ছিলেন ৩৫ জন। এরপর দীর্ঘ সময় নিয়োগ না হওয়ায় অনেকে অবসরে গেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারজন যোগ দেয়ার পর শিক্ষক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল ইসলাম বলেন, মৃৎশিল্পে বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনিও অবসরে যাবেন। তার ভাষায়, ‘একজন শিক্ষক দিয়ে একটি ডিসিপ্লিন চালানো বাংলাদেশে সম্ভবত নজিরবিহীন ঘটনা। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ও ব্যবহারিক কাজ—দুই ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

শিক্ষক সংকটের কারণে সেশনজটও বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ব্যবহারিকনির্ভর শিক্ষায় একই শিক্ষককে একাধিক ব্যাচ ও কোর্স সামলাতে হচ্ছে। ফলে পরীক্ষা কার্যক্রমও অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়।

ব্যবহারিক কাজের উপকরণের খরচও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করছে। মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘‌একটি কোর্সেই অনেক সময় ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়।’ শিক্ষা উপকরণ ব্যয় প্রসঙ্গে অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জানান, কোনো কোনো কোর্সে একজন শিক্ষার্থীর উপকরণ বাবদ ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে কখনো খোলা জায়গায় ক্লাস নিতে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে স্থায়ী প্রদর্শনী গ্যালারি না থাকায় শিল্পকর্ম প্রদর্শনেরও সুযোগ সীমিত। শিক্ষার্থী মুনিম শাহারিয়া বলেন, ‘‌গ্যালারির অভাবে নিয়মিত বার্ষিক প্রদর্শনী আয়োজন করা সম্ভব হয় না।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কিলন, স্থায়ী প্রদর্শনী গ্যালারি এবং ব্যবহারিক ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা হলে চারুকলার দীর্ঘদিনের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

চলতি সংশোধিত বাজেটে পরীক্ষার উপকরণের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। তবে অর্থ এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।

সংকট উত্তরণে নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌শিক্ষক সংকট কমাতে অনুমোদিত পদ অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া সম্ভব। আশা করা হচ্ছে, এক-দুই মাসের মধ্যে এ সংকট অনেকটাই কমবে। তবে অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে প্রায় এক বছর লাগতে পারে।’

চারুকলার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে বড় বাজেট প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌এ বিষয়ে ইউজিসির মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আরও