অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি
প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের করা
মামলায় ৮ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪'র বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দেন। এসময় আসামি পার্থ গোপাল বণিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে গত ২৭ ডিসেম্বর একই আদালতের বিচারক রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি
উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। মামলায় বিভিন্ন সময়
আদালতে ১২ জন সাক্ষ্য দেন।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির
ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের নিজ ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেসময় দুদক জানায়, পার্থ গোপালের ঘোষিত আয়কর
ফাইলে এ টাকার ঘোষণা নেই। আমাদের মনে হয়েছে এই টাকা অবৈধ আয় থেকে অর্জিত।
পরের
দিন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ পার্থ গোপাল বণিককে আসামি করে
দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা ও
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা
কার্যালয়-১ এ একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর ঢাকার বিশেষ জজ
আদালত-৫ থেকে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ২০২০
সালের ৪ নভেম্বর সাবেক ডিআইজি পার্থের বিচার শুরু হয়। ঘুষগ্রহণ ও মানি
লন্ডারিং আইনের মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। চার্জ গঠনের ফলে
এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই দিন ঢাকার বিশেষ জজ-১০’র বিচারক
নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের
জন্য ওই বছরের ১৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে
একই বছর ২৪ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের
উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন চার্জশিট দাখিল করেন।
দুদকের অভিযোগপত্রে
বলা হয়, বরখাস্তকৃত কারা উপমহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিতে
দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের
মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এসব টাকা গোপন করে তার নামীয়
কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে বিদেশে পাচারের উদ্দেশে নিজ বাসস্থানে
লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১)
ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ
আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
গত বছরের ১৯
সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪’র বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে
আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে
তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে ডিআইজি পার্থের দাবি ছিল, ৮০
লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তার শাশুড়ি
দিয়েছেন। বাকি ৫০ লাখ টাকা তার আয় থেকে জমানো টাকা।