মাগুরা জেলার চার উপজেলায় এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পাটভেদে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠায় খুশি কৃষক। তারা এবার পাটের ন্যায্য দাম আশা করছেন। এতে পাট চাষে আগ্রহ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর চাহিদার তুলনায় পাটের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ পাট কাটা শেষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষক এ পাট পানিতে জাগ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে, পুকুরপাড়ে ও নদীর তীরে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত চাষীরা। একই সঙ্গে পাটখড়ি সংগ্রহেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের নারী সদস্যরাও।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাগুরায় প্রায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের চাষ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলন হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলায় পাটের আঁশ ছাড়ানো ও পাটখড়ি সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত গৃহবধূ মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমরা এখানে পাটখড়ির জন্য কাজ করছি। দুই আঁটি পাটের আঁশ ছাড়ালে এক আঁটি খড়ি পাব। দিনে ৫০-৬০ আঁটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারলে অর্ধেকটা খড়ি মালিকের কাছ থেকে নিতে পারি। এতে মালিকও লাভবান হন, আমরাও লাভবান হই।’
মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা নদী এলাকায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন মতিয়ার রহমান (৫০), হোসেন আলী (৫২), মোবারক বিশ্বাস (৩৮), আব্দুল খালেক (৫২) ও ফারুক মোল্যাসহ (৫০) বেশ কয়েকজন শ্রমিক। তারা আঁটি চুক্তিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। শ্রমিক মোবারক বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক হিসেবে নিয়ে মালিক কাজ করাচ্ছেন। আঁটি হিসেবে চুক্তি করে আমরা পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছি।’
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে এবার পাটের দাম ভালো থাকায় তারা বেশ আশাবাদী। খালিয়া গ্রামের লিটন হোসেন জানান, এ বছর শুরুতে পাটের দাম ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত থাকায় কৃষকরা বেশ খুশি। এভাবে দাম ভালো থাকলে ভবিষ্যতে কৃষকরা পাট চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
মাগুরা অঞ্চলে এবার উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাইজুল ইসলাম জানান, এ বছর মাগুরায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা পাটের ন্যায্য দামও পাবেন।