সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ

কপ৩১ সম্মেলনে ঋণ নয় অনুদান হিসেবে ক্লাইমেট ফান্ডের দাবি তুলে ধরা হবে

বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ সংলাপের আয়োজন করেন।

তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ‘কপ৩১’ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ঋণ হিসেবে নয়, বরং অনুদান হিসেবে পাওয়ার যৌক্তিক দাবি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এটি পাওয়া বাংলাদেশের অধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য হলেও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। আমাদের উপকূলীয়, গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের জনগণ প্রতিনিয়ত জলবায়ু দুর্যোগের কারণে চরম দুর্ভোগ ও জীবনহানির মুখোমুখি হচ্ছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলা ও ক্ষতি নামিয়ে আনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।’

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পিপল লেড পলিসি: বাংলাদেশ পজিশন অ্যাট কপ থার্টিওয়ান’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ সংলাপের আয়োজন করেন। এতে বাংলাদেশের জলবায়ুবিষয়ক অবস্থানপত্রের মূল দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬-২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে অবকাঠামো (ইনফ্রাস্ট্রাকচার), জ্বালানি, প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে গঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নাইকমের নির্বাহী পরিচালক ড. এসএম মনজুরুল হান্নান খানসহ উপস্থিত পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিষয়ক উন্নয়ন কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, কপ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্লাইমেট ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, সেখানে আমরা বাংলাদেশকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাটজাত পণ্যের প্রসারে আলাদা প্যাভিলিয়ন নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে স্পিনার, বেসরকারি খাত এবং পাটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা ও একাধিক বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাটের আন্তর্জাতিক বাজার পুনর্দখল, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিস্তার এবং দেশীয় পাটচাষীদের জীবনমান উন্নত করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি মোকাবেলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ।

আরও