মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় পাঁচটি ফেরিঘাটে তিনটি পন্টুন ডুবে গেছে। মাত্র দুটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার চলছে। ১৬টির মধ্যে সচল আছে ১২টি ফেরি। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে। এতে ঘাটে শত শত বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কও ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছে তারা।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার শত শত যানবাহন ও অসংখ্য যাত্রী পারাপার হয়। ১৫ দিন ধরে ধীরে ধীরে পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে থাকে। কিন্তু গত তিনদিনে হঠাৎ পানি বেশি বেড়ে ৫, ৩ ও ১ নম্বর ঘাটের পন্টুন ডুবে যায়। এতে ওই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর ঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ৩ নম্বর ঘাট নিচের স্তর থেকে উঠিয়ে মধ্যম স্তরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আর ১ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক বালিমাটির হওয়ায় সেখান দিয়ে যানবাহন ওঠানামা করতে পারছে না। ফলে শুধু ২ নম্বর ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবদুস সালাম জানান, পদ্মায় পানির বাড়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র স্রোত। স্রোতের প্রতিকূলে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে।
এদিকে পাটুরিয়ার লঞ্চঘাটেরও একই অবস্থা। লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা লঞ্চে ওঠানামা করছে। দ্রুত লঞ্চঘাটটির পন্টুন ওপরের স্তরে ওঠানোর দাবি যাত্রীদের।
পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার পান্না লাল জানান, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হয়েছে। সংযোগ সড়কে সাময়িক কিছু বালির বস্তা দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লঞ্চঘাট এলাকায় পানির উচ্চতা এখনো সাত ফুটের নিচে আছে। পানি আরো বাড়তে থাকলে লঞ্চঘাট সরিয়ে পাশের ফেরিঘাটের পন্টুনে সংযোজন করা হবে।’