যশোরে মজুতখালী নদীর বাঁধে ধস, আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ

যশোরের অভয়নগরে মজুতখালী নদীর বাঁধে কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটি ফেলে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

যশোরের অভয়নগরে মজুতখালী নদীর বাঁধে কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটি ফেলে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলে তিন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সংস্কার ও স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদের ত্রিমোহনী থেকে শুরু হয়েছে মজুতখালী নামে একটি শাখা নদী। নদীর অভয়নগর অংশে সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের দিঘলীয়ারাবাদ, নলামারা ও জয়ারাবাদ গ্রাম রয়েছে। গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণে বাঁধের কয়েকটি স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। কারণ মজুতখালী নদীর তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভেসে যায় মাছের ঘের, ডুবে যায় ফসলের খেত। পানিবন্দি হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও নেয়া হয়নি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ।

দিঘলীয়ারাবাদ গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গ্রামরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের কারণে যে কোনো সময় নদীর পানি ঢুকে পড়তে পারে গ্রামে। গ্রামবাসীর উদ্যোগে মাটিভর্তি বস্তা ফেলে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। তবে পানির চাপ বাড়লে সেটিও ভেঙে যাবে। প্লাবিত হবে পাশাপাশি থানা তিনটি গ্রাম।’

সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম বলেন, ‘মজুতখালী নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তা না হলে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে তিন গ্রামের শত শত বসতবাড়ি, মাছের ঘের ও ফসলি জমি। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এতে নতুন বাঁধ তৈরি করাসহ জিওব্যাগ বা সিসি ব্লক ফেলে স্থায়ী সমাধানের দাবি করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল বলেন, ‘গ্রামবাসীর দেয়া স্মারকলিপি পেয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মজুতখালী নদীর বাঁধ সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আরও