খাদ্য তৈরি বিষয়ক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে বক্তারা

দেশের অপুষ্টি দূরীকরণে সয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই

ধান-গম ও ভুট্টাসহ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বেশির ভাগ নারী-শিশু ও পুরুষ এখনো পুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে।

ধান-গম ও ভুট্টাসহ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বেশির ভাগ নারী-শিশু ও পুরুষ এখনো পুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে। অপুষ্টি দূরীকরণে সয়াবিন সবচেয়ে বেশি প্রোটিনযুক্ত ফসল। সয়াবিনের মতো পুষ্টিগুণ দুধ, ডিম ও ডালসহ অন্য কোনো খাদ্য উপাদান ও ফসলে নেই। সুতরাং বাংলাদেশের অপুষ্টি দূরীকরণে সয়াবিন খাদ্যের বিকল্প নেই বলে মনে করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আবদুল করিম।

গতকাল নোয়াখালীর মাইজদীর একটি গেস্ট হাউজে দিনব্যাপী ‘সয়া পুষ্টির গুরুত্ব, খাদ্য তৈরি ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে তিনি এসব কথা বলেন। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে নারী-পুরুষসহ ২০ জন সয়া খাদ্য উৎপাদনকারী অংশ নেন।

প্রফেসর আবদুল করিম বলেন, ‘প্রোটিনের ঘাটতি গ্রামীণ ও শহুরে উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতার অভাব, প্রক্রিয়াজাত করার সীমিত দক্ষতা এবং বাজারজাতের অভাবে দেশে সয়াজাত খাবারের ব্যবহার এখনো সীমিত। এজন্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সয়াবিন উৎপাদন, বিপণন ও সয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে সরকারের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া গেলে অপুষ্টি দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নের আয়োজিত কর্মশালায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার হেড অব সাপ্লাই চেইন মো. মজিবুল হক বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের চারটি উপজেলা, নোয়াখালীর দুটি ও চাঁদপুরের একটি উপজেলায় সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও মূল্য সংযোজন নিয়ে কাজ করছে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক। পুষ্টি ও নারী কর্মসংস্থার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সয়া খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ২০ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারা স্থানীয়ভাবে সয়া খাদ্য উৎপাদন করে বাজারজাত এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন।’

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার হেড অব সাপ্লাই চেইন মো. মজিবুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন। প্রশিক্ষণ শেষে সয়াবিন থেকে তৈরি করা পিঠা, মোগলাই, আটা ও দুধসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিরা।

আরও