চাঁদপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

কুমিল্লা নামে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে এ পথসভায় অংশ নেন। তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সে ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে। সব ওয়াদা পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।

১৭ বছর লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে উল্লেখ করে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, তার ভিত্তিতে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরই মধ্যে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী দেয়া শুরু হয়েছে। দেশের মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে বিএনপি। তবে দেশ পুনর্গঠন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ।’

দেশ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। একই সময়ে স্বাধীন হওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো আজ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। কারণ আমরা এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিলাম। ১৯৭১ সালে যেভাবে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষ এবার স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলেই হবে না, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি হয়। আপনাদের দাবি হচ্ছে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। সবকিছু বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করব। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করব।’

পথসভায় কুমিল্লা নামে বিভাগ প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের দাবি জানানো হয়। এসব দাবি প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ দাবিটি যদি জনগণের প্রকৃত দাবি হয়ে থাকে, তবে সেটির বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আপনাদের সব যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে।’

তারেক রহমান তার সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। মা-বোনরা যাতে শিক্ষায় ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের কৃষক ভাইদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দিনে-রাতের যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।’

বক্তব্যের শেষে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে জনগণের কাছে ধৈর্য প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার যেমন মানুষের ওপর অত্যাচার, গুম ও খুন চালিয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে লুটপাট করে পাচার করেছে। এ ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে আছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম এবং কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরে যান। বিকালে সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি খালে নেমে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খালের মাটি কাটেন। পরে খাল পাড়ে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন।

বিশ্ব খালটি ডাকাতিয়া নদী থেকে ঘোষের হাট হয়ে মতলব দক্ষিণ সীমানা পর্যন্ত দীর্ঘ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জলাধার সংরক্ষণ, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। কেউ যদি এ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সে পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে।’

দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সামনে উদ্দেশ্য-লক্ষ্য একটাই। এ দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সে কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সব সময় একটি কথা বলে থাকে—জনগণই হচ্ছে সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সে জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি।’

চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারমান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখননস্থলে পৌঁছে প্রথমে ফলক উন্মোচন করেন। পরে খোর্দ্দ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। চাঁদপুর ছাড়াও আরো ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। পরে এক সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন। এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।

আরও