ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। লংমার্চ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানে পৌঁছতে হবে।’
গতকাল দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের আলোচনায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর “ওয়াচডগ” প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়।’
পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এর মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটায়।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ধারণ করতে হবে।’
সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলকে সংস্কার কমিটিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা গেলে তা জাতির জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ধর্ম, ভাষা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ভিত্তিতে বিভক্ত না হয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’