এয়ারবাসের পাইলটে নতুনদের অগ্রাধিকার দিতে চায় বিমান

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান।

এয়ারবাসের কাছ থেকে কিনতে যাওয়া ১০টি উড়োজাহাজ পরিচালনায় নতুন পাইলট তৈরির পরিকল্পনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে একেবারে নতুন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, নাকি আগে থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এমন পাইলটদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিদ্যমান পাইলটদের মধ্যে যাদের চাকরির মেয়াদ আর ছয়-সাত বছর আছে, তাদের পেছনে ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ কতটা যৌক্তিক হবে, সেটিও ভাবছে বিমান।

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। সে অনুযায়ী, উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৩ সাল। তবে এর আগেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য এয়ারবাসকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে নতুন উড়োজাহাজের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি বর্তমান বহর পরিচালনায় পাইলটের ঘাটতি পূরণও সংস্থাটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘১০টি উড়োজাহাজের বিপরীতে এয়ারবাস হয়তো ৩০, ৬০ বা ৬৫ জনের মতো প্রশিক্ষণার্থী পাইলট তৈরির প্যাকেজ দিতে পারে। তবে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, নাকি আগে থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এমন পাইলটদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাদের চাকরির মেয়াদ আর ছয়-সাত বছর আছে, তাদের পেছনে ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।’

বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিদ্যমান বহর পরিচালনার ক্ষেত্রেই পাইলট সংকটে ভুগছে সংস্থাটি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি ও এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। বর্তমান বহরের কোনো উড়োজাহাজ বাদ না পড়লে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫৪-তে দাঁড়াতে পারে।

বিমানের উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে এখনই পাইলট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পাইলট প্রশিক্ষণে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই উড়োজাহাজ দেশে আসার সময় প্রয়োজনীয়সংখ্যক পাইলট প্রস্তুত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে এয়ারবাসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ সুবিধা পাওয়া গেলে ব্যয় কমানো সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘একেবারে নতুন ক্যাডেট পাইলটদের স্বল্প সময়ে উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করা কঠিন। তাই নতুন পাইলট তৈরির পাশাপাশি অভিজ্ঞ পাইলটদের এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রয়োজনে বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ পাইলট নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। উড়োজাহাজের সংখ্যা ও পাইলটের চাহিদা হিসাব করে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি।’

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে হবে বিমানকে। দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী পাইলটদের পৃথক প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৌশলীদের কারিগরি দক্ষতা, যন্ত্রাংশের সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনায়ও প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়টি সম্পর্কে বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো একই সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটি আমাদের জন্য সহজ হবে না।’

পাইলট নিয়োগের ক্ষেত্রে একসঙ্গে বড়সংখ্যক নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে বিমান। এ প্রসঙ্গে বিমানের এমডি জানান, ছয় মাস পরপর অল্পসংখ্যক পাইলট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মজীবনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একসঙ্গে ৪৮ বা ৬৪ জন পাইলট নিয়োগ দিলে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ছোট ছোট ব্যাচে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও