শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকি বাড়ে

অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যেসব পরামর্শ দিল ফায়ার সার্ভিস

রান্নাঘরে আগুনের ঝুঁকি কমাতে রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে কোনো ধরনের আগুন জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে এ সময় আগুন লাগার ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে জানিয়ে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসাবাড়ি, কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ এবং এর শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

রান্নাঘরে আগুনের ঝুঁকি কমাতে রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে কোনো ধরনের আগুন জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াতে তার, সুইচ, সংযোগ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ পুরোপুরি নিভিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলা এবং শিশুদের দিয়াশলাই, লাইটার বা আগুন নিয়ে খেলতে না দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার না করার পাশাপাশি বাসাবাড়ি, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এসব যন্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি শেখা এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর প্রথমে দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে আগুন, দিয়াশলাই বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করে নিরাপদ স্থান থেকে জরুরি সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণে রাখার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস বলেছে, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। তাই সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও