হাতের টানে উঠে যাচ্ছে যবিপ্রবি সড়কের কার্পেটিং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে টেনে তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সহজেই সড়কের পিচের আস্তরণ তুলে ফেলছেন, যা হাতে মুঠো করে চেপে ধরতেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা, অভিযোগ উঠেছে নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান ফটক থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার লম্বা রাস্তা তৈরির কাজ গত জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কার, দুপাশের ড্রেন, ফুটপাত কার্পেটিং ও ব্লক বসানো দিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ হতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার একটি ব্যানার রাস্তায় টানিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা মার্চেও শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের আগে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে যবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে গিয়ে মানের সঙ্গে আপস করা হয়েছে। ফলে কার্পেটিং টেকসই হয়নি।

জিইবিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম বলেন, ‘‌দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘ সময় নিয়েও সড়কটি মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হয়নি। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সড়ক শক্ত হয়নি।’

আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা সরকার বলেন, ‘‌বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের অনিয়মের বিচার না হওয়ায় একই ঘটনা বারবার ঘটছে।’

এ সড়ক তার প্রমাণ। শুধু ঠিকাদার নয়, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ ইমামকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। তবে তার দাবি, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী বিআরটিসি বাস থেকে ডিজেল চুইয়ে পড়ায় সড়কের কিছু অংশের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী সরঞ্জাম দিয়েই সড়কটি সংস্কার হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘‌সড়ক নির্মাণকাজ তদারকির মধ্যেই হয়েছে। কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। কেন কার্পেটিং উঠছে, তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে।’

যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী জালাল উদ্দীন জানান, সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত। তদন্ত করে কোনো অনিয়ম প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও