রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সম্পদও ক্রোক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, রংধনু গ্রুপের ১৩টি ব্যাংক হিসাব ও যমুনা ফিউচার পার্কের ১ লাখ বর্গফুট কমার্শিয়াল স্পেস আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রফিকুল ইসলাম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর অধীনে তদন্ত চালানো হয়। অনুসন্ধানে উঠে আসে, রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করে তা বিক্রি করত।
এমনই এক ঘটনায়, ২০২২ সালের ৮ মার্চ রফিকুল ইসলামের ছেলে কাউসার আহমেদ অপু ও মেহেদী হাসান দিপু পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির কাছে ৭ দশমিক ৫৭৫১ একর জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে, একই জমির ৬ দশমিক ৩৩৭৫ একর অংশ ২০২২ সালের ১ জুন ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি লিমিটেডের (বসুন্ধরা গ্রুপ) কাছে পুনরায় বিক্রি করে প্রতারণামূলকভাবে ৫৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা অর্জন করে।
এছাড়াও, বালুভরাটের ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করে। একইভাবে, ইসলামী ব্যাংক বারিধারা শাখা থেকে ভুয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেখিয়ে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে অভিযুক্তরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, এ অর্থ পাচার করে রফিকুল ইসলাম অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই দেশের বিনিয়োগ স্কিমে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি নাগরিকত্ব পান।