ভরা মৌসুমেও রংপুরে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী

চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে মোটামুটি বোরো মৌসুম শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ধান বিক্রিও করেছেন কৃষক।

চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে মোটামুটি বোরো মৌসুম শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ধান বিক্রিও করেছেন কৃষক। এখন আমন ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন চাষীরা। বোরোর এমন ভরা মৌসুমেও রংপুরে চালের দাম বাড়ছে। এক মাসে সব ধরনের চালের দাম প্রতি কেজিতে ৪ টাকারও বেশি বেড়েছে।

রংপুর বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা। গত বছর এ সময় ছিল ৪৬ টাকা। মাঝারি চাল গত বছর প্রতি কেজি ৫৭ টাকা বিক্রি হলেও এবার বেড়ে ৬৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৬ টাকা। গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, চালের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। দাম বাড়ার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা দোষ দিচ্ছেন পাইকারদের, আর পাইকাররা দোষ দিচ্ছেন বড় ব্যবসায়ীদের। কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে ধান যাওয়া মাত্রই বাজার নিয়ন্ত্রণ তারাই করছেন। তবে এ অবস্থায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।

রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সালেহ আজিজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘৩০ টাকা কেজির মহানগরীর আটটি পয়েন্টে চাল বিক্রি কর্মসূচি চলমান রয়েছে। জেলায় আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকার ধানের দাম প্রতি কেজি দিয়েছে ৩৬ টাকা এবং চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৯ টাকা। তবে কী কারণে ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে, আমিও প্রকৃত কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৪০০ টন। জুনের প্রথম সপ্তাহে মোটামুটি কৃষক পর্যায় বোরো মৌসুম শেষ হয়েছে। অনেকে আউশ ধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। জেলায় এবার ২৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯১০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখন কৃষক আমন ধানের বীজতলা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ধান-চালের ভরা মৌসুমেও বাজার ঊর্ধ্বমুখিতার বিষয় জানতে চাইলে রংপুর সিটি করপোরেশন বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. মুন্না বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত করপোরেট কোম্পানিগুলো চাল বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু করায় বাজার লাগামহীন হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, তারা এখন কৃষকের কাছে থেকে বিভিন্ন উপায়ে ধান কিনছে।’

তবে দাম বাড়ার জন্য অটোরাইস মিল মালিকদের দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘যেই কৃষকের কাছ থেকে ধান নেয়া শেষ হয়েছে, মিল মালিকরা চালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছেন। এক মাসেরও কম সময়ে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় তার বিক্রি অনেক কমে গেছে। এখন ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করা কষ্টকর। অথচ আগে প্রতিদিন এক ট্রাকের বেশি চাল বিক্রি করতেন।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মিল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খাদ্য বিভাগ সারা দেশে চালের দাম, বিশেষ করে মোটা চালের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তারা যেভাবে ধান সংগ্রহ করেছে, সেখানে কোনো কোয়ালিটি মেইনটেইন করেনি। আগে ধানের মণ ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। তাদের এ কর্মসূচির জন্য তা এক লাফে ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ২৩০ টাকায় উঠে গেছে। যার রেশ এখনো বাজারে বিদ্যমান।’

আরও