এআই নিয়ে সম্মেলনে বক্তারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘জনগণের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত ডিজিটাল যন্ত্র ও কম্পিউটিং প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ আরো বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল কাজে লাগাতে পুরো সরকার ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’ সরকারি সেবার সব ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃকার্যক্ষমতা কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘জনগণের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত ডিজিটাল যন্ত্র ও কম্পিউটিং প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ আরো বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।’ আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে জ্ঞানভিত্তিক কর্মী তৈরি করা জরুরি।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে।’ প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপে সরকারি সহায়তা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এর সুফল কারা পাবে। বাংলাদেশ এ প্রযুক্তির শুধু ভোক্তা নয়, এর সুফলের ন্যায়সংগত অংশীদার হতে চায়।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উইং ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ঢাকায় একটি ‘এআই পলিসি ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান এআইয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দিক তুলে ধরেন।

সংলাপে ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৫টি কূটনৈতিক মিশন অনলাইনে যুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, প্রযুক্তি শিল্প, স্টার্টআপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী চেম্বার, শিক্ষাঙ্গন ও থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

আরও