আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

দেশে কমছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা, বয়স্কের চাপ ও পুষ্টিহীনতায় বাড়ছে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি

বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

জন্মহার কমে আসা এবং গড় আয়ু বাড়ার ফলে একদিকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত স্থিতিশীল হয়ে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, অন্যদিকে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা। একই সময়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, দক্ষতার ঘাটতি এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ দীর্ঘদিন বেকার বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকায় দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর আগেই দেশ বার্ধক্যজনিত অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে।

আজ ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এ বছর দিবসটি এমন সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা ও পূর্বাভাস। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কর্মক্ষম। বর্তমানে ১৫-৫৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬২ শতাংশ, আর ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৫-৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী প্রায় ৬৫ শতাংশ। তবে এ অনুপাত আগামী বছরগুলোয় দ্রুত বদলে যাবে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের হার ১৩ শতাংশেরও বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএনএফপিএ।

জনমিতিক লভ্যাংশ বলতে এমন সময়কে বোঝায়, যখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা নির্ভরশীল শিশু ও প্রবীণের তুলনায় বেশি থাকে। এ সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করতে পারলে অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশে এ সুযোগের সময় এখন শেষ পর্যায়ে। ইউএনএফপিএ বলছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির মাধ্যমে পাওয়া প্রথম জনমিতিক লভ্যাংশ ২০২০-এর দশকের শুরুতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন থেকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অংশ ধীরে ধীরে কমবে এবং প্রবীণ নির্ভরশীলতা বাড়বে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক নুরুজ্জামান হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিভিন্ন জরিপ, প্রতিবেদন অনুসারে দেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এর বিপরীতে কিন্তু নারীদের ফার্টিলিটি রেট (প্রজনন হার) কমে আসছে। আর যখন শিশুর সংখ্যা কমবে, তখন সেটির প্রভাব গিয়ে পড়বে তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর। ১৫-৫৯ বছর বয়সীর তুলনায় তার বেশি বয়সের মানুষের সংখ্যা কিন্তু এখন বাড়ছে। সুতরাং আমরা ধারণা করছি ২০৩১-৩২ সালের দিকে গিয়ে আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধা আর থাকব না। তখন দেশ দ্রুত বয়স্ক সমাজের দিকে অগ্রসর হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিপুলসংখ্যক তরুণকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের ৪১ শতাংশ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ (এনইইটি)—কোনোটিতেই যুক্ত ছিলেন না। আর তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার আগেই উৎপাদনশীলতা থেকে ছিটকে পড়ছেন।

বিবিএসের হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ১০ হাজার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অবশ্য বলছে, গত এক দশকে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণের মধ্যে কর্মসংস্থান হয়েছে কেবল ৮৭ লাখের। বাকি প্রায় ৫৩ লাখ কাজে বাইরে থেকে গেছেন।

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকলেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে শ্রমবাজারে রয়েছে বড় ধরনের অমিল। ফলে একদিকে শিক্ষিত তরুণের পাশাপাশি বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে দক্ষ জনবল সংকটও রয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন হাইলাইটস ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী এরই মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গত বছর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৩ লাখ হলেও ২০৫০ সালে তা ৩ কোটি ১০ লাখে নেমে আসবে। একই সঙ্গে মোট জনসংখ্যায় তরুণদের অংশও ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশে।

জন্মহার কমা এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দ্রুত একটি বার্ধক্যমুখী সমাজে রূপ নিচ্ছে। ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে নারীদের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ একজন নারী গড়ে দুটি সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। একই সময়ে জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বেশি ১৫-৬৪ বছর বয়সী হলেও তার ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শুধু জাতিসংঘ, বিবিএস নয় দেশে বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি)। সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দুই দশকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, পেনশন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর তৈরি করবে বাড়তি চাপ। এখন থেকেই এসব খাতে প্রস্তুতি না নিলে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

দেশের কর্মক্ষম মানুষকে এখনই কাজে লাগানো না গেলে তা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড না হয়ে ডেমোগ্রাফিক বার্ডেন হতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের জন্য ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড না হয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টার বা ডেমোগ্রাফিক বার্ডেন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে সমস্যা বাড়বে। এখানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। না হলে বৈষম্য বাড়বে।’

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এখন দ্রুততম হারে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির দেশগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রতি ১০ জনের একজন ৬০ বছরের বেশি বয়সী। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের হার ৮ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২৭ বা ২০২৮ সালের দিকেই বাংলাদেশ এজিং (বয়স্ক) সোসাইটিতে রূপান্তরিত হবে।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘জাপানের মতো দেশ আগে উন্নত হয়েছে, পরে এজিং সোসাইটিতে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা দ্রুত এজিং সোসাইটিতে চলে যাব, কিন্তু তখন আমাদের মাথাপিছু আয়, আয় প্রবৃদ্ধি কিংবা জিডিপি প্রবৃদ্ধি জাপানের মতো পর্যায়ে থাকবে না। ফলে এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ মুহূর্তে দরকার সুস্পষ্ট ও সমন্বিত জনসংখ্যা পরিকল্পনা।’ আর এ নিয়ে সঠিক পরিকল্পনার জন্য পৃথক একটি কমিশন বা মন্ত্রণালয় করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

জনমিতিক লভ্যাংশ শুধু জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সেই জনগোষ্ঠী কতটা সুস্থ, দক্ষ ও উৎপাদনশীল তার ওপরও। দেশে গত দুই দশকে শিশুমৃত্যু কমলেও অপুষ্টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খর্বাকৃতি, কম ওজন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে বেড়ে ওঠা শিশুরা ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে না। একই সঙ্গে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি থাকে। মাতৃপুষ্টির ঘাটতি, কম ওজন নিয়ে জন্ম, দারিদ্র্য, নিরাপদ খাদ্যের অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য এ সংকটকে আরো গভীর করছে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৪-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ অপুষ্টির শিকার। সম্প্রতি হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে শিশুমৃত্যু বৃদ্ধির পেছনে অপুষ্টিকেই বড় কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির অন্যতম কারণ দরিদ্রতা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ২০২৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে তা ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।

শিশুরা ছোটবেলায় অপুষ্টিতে ভুগলে কর্মক্ষম বয়সে এর প্রভাব পড়ে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পুষ্টি ও অপুষ্টির সঙ্গে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। একটি শিশু অপুষ্টিতে ভুগলে তার শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, অন্যান্য কার্যক্ষমতা, মেধা—সবকিছুর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা খুব সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে। ছোটবেলায় যে শিশু অপুষ্টিতে ভোগে পরে সে যখন কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছায়, তখন এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে। আবার অপুষ্টি নিয়ে বড় হওয়া একটি মেয়ে যখন মা হবে, তখন তার সন্তানও সুস্থ ও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এভাবেই অপুষ্টি একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি দুষ্টচক্রের মতো।’

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশের সামনে এখনো আরেকটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে—‘জেন্ডার ডিভিডেন্ড’। অর্থাৎ নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে আরো বেশি যুক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। কিন্তু বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব, মজুরিবৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা এখনো নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’। দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। সে লক্ষ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

তরুণরাই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সম্ভাবনাময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জ এখনো আমাদের তরুণ প্রজন্মের বিকাশ ও অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। এসব সমস্যা শুধু একজন কিশোরী বা একটি পরিবারের নয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।’

আরও