মেঘনায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলন

চাঁদপুরের হাইমচরে শতকোটি টাকার বেড়িবাঁধে ভাঙন

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় বর্ষার আগেই মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে।

হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকার নদীর তীররক্ষা বাঁধ। ভাঙন স্থানে ফেলা ব্লকগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকায় রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালি কেটে নেয়ায় কয়েক একর বালুচর বিলীন হয়ে গেছে, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন আতঙ্ক। চরভৈরবীর ১ নং গাজীনগর এলাকায় নদীরক্ষা বাঁধসংলগ্ন বিশাল বালুচরটি ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলার প্রধান জায়গা। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগেও সেখানে কিশোররা ফুটবল খেলেছে। কিন্তু বর্তমানে পুরো চরটি বিলীন হয়ে সেখানে গভীর পানির খাদ তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে নেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুচরটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় মেঘনার স্রোত এখন সরাসরি নদী রক্ষা বাঁধে আঘাত করছে। স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেখানে ছেলেরা ফুটবল খেলত, সকালে এসে দেখি সেই মাঠটাই নেই। রাতের আঁধারে প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে বালি কেটে নেয়ায় মাঠের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে বালি কাটলে বাঁধ টিকবে না, আর বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি সব নদীতে তলিয়ে যাবে।’

এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাউবোর পক্ষ থেকে সাতজনকে আসামি করে হাইমচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।

হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি রাখছি এবং পর্যবেক্ষণ করছি। যারা বালি উত্তোলন করবেন তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করা হবে।’

চাঁদপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের প্রতিরক্ষামূলক কাজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে বাঁধের স্থান আবারো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায় জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পাউবোর সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও