মাদারীপুরে চলতি বছরের জুনে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কার করা হয়। তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই সড়কের অন্তত ১৫০টি স্থানে ছোট-বড় বিপজ্জনক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন অংশ ডেবেও গেছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বিভিন্ন সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
২০১৮ সালে ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় মহাসড়কটি। এর মধ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটার চার লেন। নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন অংশে গর্ত দেখা দেয়। প্রতি বছর সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। সড়ক সংস্কারের নামে ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে অর্থ লুটপাট করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় কয়েকজন। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা হয়। নামকরণ করা হয় শেখ হাসিনা মহাসড়ক। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আওতায় পাঁচটি প্যাকেজে এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ৮২ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে মহাসড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও তিন বছরের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়ে পড়ে। পরে ২০২১-২২ অর্থবছরে মহাসড়কটি সংস্কারে আরো ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮১৫ টাকা ব্যয় ধরা হয়। এ সময় মহাসড়কের মস্তফাপুর থেকে ডিসি ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার চার লেন ও ডিসি ব্রিজ থেকে খোয়াজপুর পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার দুই লেন সংস্কারকাজ করে বরিশালের ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মহাসড়কে যেনতেনভাবে সংস্কারকাজ শুরু করে। ১৯ জুন কাজ শেষ করে চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ টাকা জামানত রেখে ৭ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৯ টাকা তুলে নেয়।
বিষয়টি মানতে নারাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাসুদ খান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মহাসড়কটি সংস্কারে আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। ভারতীয় পাথর ও পিচ দিয়ে কাজটা করা হয়েছে। কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। সড়কটি যখন নির্মাণ করা হয় তখন সড়কে নিচের স্তরে ভালোভাবে কাজ করা হয়নি। এ কারণে সড়কটি ডেবে যাচ্ছে। তার পরও সড়ক ও জনপথ থেকে বলা হলে আমরা গর্তগুলো ঠিক করে দেব।’
যেনতেন কাজ করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আল-ইমরান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘মহাসড়কটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সংস্কারকাজের সময় অনিয়ম থাকলেও তা বলতে পারছি না। কারণ তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারকাজটি করেছে তারা আগামী আরো দুই বছর সড়কটি মেইনটেন্যান্স করবে। সড়কটির গর্ত মেরামত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে বলা হয়েছে। তারা যদি মেরামত না করে, তাহলে আমরা নিজেরাই মোবাইল টিম
দিয়ে মেরামত করব। পরে নিয়ম অনুসারে তাদের জামানত থেকে অর্থ কাটা হবে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগ কত টাকা ব্যয়ে সড়ক মেরামত করছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হবে। মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে কার্যকর ব্যবস্থাও নেয়া হবে। কারণ সরকারের টাকা মানে জনগণের টাকা, এ টাকা অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। কারো কোনো গাফিলতি থাকলে প্রয়োজনে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’