সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির শপথ না নেয়া প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের কোনো বিধান সংবিধানে নাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও শপথবাক্য পাঠ করানোর এখতিয়ার নাই। সে হিসাবে, উনিও (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) শপথবাক্য পড়ানোর জন্য অ্যাপ্রোচ করেন নাই। আমরাও শপথ নেইনি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছি। তিনি আজ বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর মাধ্যমে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। এখন আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। এটাকে আমরা ক্ষমতা বলি না, বলছি দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সর্বস্ব হারিয়েছেন— তাদের প্রত্যাশা, এ জাতির আকাঙ্ক্ষা, সবকিছু আমাদের পূরণ করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। জাতীয় সংসদ হবে সবকিছু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার হবে, সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার হবে। তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী, মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গঠন করতে হবে। সে জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে। আইন সংশোধন করতে হবে। সংস্কার করতে হবে সংবিধানের। এগুলো আমাদের জন্য বড় দায়িত্ব। তাই এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুসারে, জনগণের যে ইচ্ছা এবং গণভোটের যে রায় সেটার প্রতিফলন ঘটাতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে। আইন এবং সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সেটা সংশোধনের পরে যিনি শপথবাক্য পাঠ করাবেন, সেটা এবং শপথের ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হবে। এখন সংবিধান অনুসারে, ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২ (ক) তে বলা আছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যদি শপথবাক্য পাঠ করাতে না পারেন, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি যদি তিন দিনের মধ্যে তা না করেন, তবে চতুর্থ দিন থেকে অর্থাৎ, তিন দিনের পর থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সেই অনুসারে, সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। এখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের কোনো বিধান সংবিধানে নাই। উনারও শপথবাক্য পাঠ করানোর এখতিয়ার নাই। সে হিসাবে, উনিও (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) শপথবাক্য পড়ানোর জন্য অ্যাপ্রোচ করেন নাই। আমরাও শপথ নেইনি।
তিনি আরো বলেন, সবকিছুই সাংবিধানিকভাবে পরিচালিত হওয়া দরকার।