নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে পাহাড় ও টিলা কাটায় অতিবৃষ্টিতে এ আশঙ্কা আরো বেড়েছে। অতিবর্ষণে মাটি নরম হয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে পাহাড় ও টিলার পাদদেশে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবন এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে আড়াই শতাধিক পরিবার টিলার পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার আখালিয়া, ব্রাহ্মণশাসন, দুসকি, টিলারগাঁও, খাদিমনগর, খাদিমপাড়া, বালুচর, টুকেরবাজার, পাঠানটুলা গুয়াবাড়ি, জাহাঙ্গীর নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় টিলার নিচে বসতি গড়ে উঠেছে। এমনকি আখালিয়া বড়গুল এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা টিলা দখল করে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করছে। এসব স্থানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। কেউ নামমাত্র টাকা দিয়ে দখলদারদের কাছ থেকে জায়গা কিনেছে, আবার কেউ ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছে। খাদিমনগর ইউনিয়নের ভাটা এলাকায় একটি মাদরাসার সামনে ও পেছনে নির্বিচারে টিলা কাটার অভিযোগ রয়েছে। টিলা কাটার ফলে মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।
মৌলভীবাজারের চিত্র আরো ভয়াবহ। সেখানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবাধে পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে। প্রভাবশালী পাহাড়খেকো চক্র বসতবাড়ি, রিসোর্ট ও বাগান তৈরির জন্য এবং মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী, বড়লেখা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে টিলা কাটা হচ্ছে। কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকায় টিলা কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। উঁচু টিলার ক্ষতবিক্ষত বুকজুড়ে আছে সদ্য মাটি কাটার চিহ্ন, বেরিয়ে রয়েছে লাল মাটি। প্রভাবশালীরা প্রথমে বনাঞ্চল উজাড় করে, তারপর সুযোগ বুঝে ন্যাড়া টিলার মাটি কাটতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা না থাকায় এসব এলাকার পাহাড়-টিলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে অনেক মানুষ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেলেই আমরা অভিযান চালাই। মামলা করি। শুধু আইন প্রয়োগ করে এটি বন্ধ করা যাবে না, এজন্য মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন।’
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিলার নিচে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া আছে। পাহাড় কাটা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর হবেন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।