রংপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গ নিয়ে এক ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারী মারা গেছেন। তারা দুজন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল থেকে রবিবার আরো ছয়জন করোনামুক্ত হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। এ নিয়ে মোট ৩৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হল।
আজ রোববার রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার বলেন, নগরীর নিউ সেনপাড়ার বাবুল বণিক ও শালবন এলাকার জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর জানার পরপরই তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছিলেন কিনা।
গত শনিবার (১৬ মে) রংপুর নগরীর নিউ সেনপাড়ার বাসিন্দা নবাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাবলু বণিক গুরুত্ব অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অন্যদিকে ওইদিন রাতে নগরী শালবন এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে জহুরুল ইসলাম টুলু নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের (পিডিবি) অবসরপ্রাপ্ত ফোরম্যান ছিলেন।
এদিকে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল থেকে রবিবার আরো ছয়জন করোনামুক্ত হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। এ নিয়ে মোট ৩৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলো।
সুস্থ হয়ে যারা বাড়ি ফিরলেন তারা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের কর্মরত নাজমুন নাহার, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স রেজওয়ানা এবং শাহীনা পারভীন, রংপুর কারুপণ্য লিমিটেডের জিএম সৈয়দ অনোয়ার হাবিব এবং রংপুর শহরের বাসিন্দা শমসের আলী। এসময় তাদের ফুল ও চিঠি দিয়ে বিদায় জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ চিকিৎসকরা।
ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম নূরুন নবী জানান, নাজমুন নাহার গত ৭ মে, শমসের আলী, সৈয়দ অনোয়ার হাবিব ও রেজওয়ানা ৮ মে এবং শাহীনা পারভীন ৯ মে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ভর্তি হন। এই ছয়জনের শরীরে উপসর্গ না থাকায় এবং পরপর দুইবার নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ায় রবিবার তাদের ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, গত ১৯ এপ্রিল এই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে ৭১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। রবিবার পর্যন্ত ৩৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রংপুর জেলায় (১৬ মে পর্যন্ত) করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১২ জন। এদের মধ্যে শুধু রংপুর মহানগর এলাকাতেই দেড় শতাধিকের অধিক রোগী রয়েছে।